মোঃ মাসুদ রানা সোহাগ, দোয়ারাবাজার:
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও তেল সংকট, শ্রমিক সংকট ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ধান ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকরা।
উপজেলার হাওরাঞ্চলে ধান পাকার সঙ্গে সঙ্গে কৃষক কৃষাণীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। কোথাও কোথাও ধান কাটার ধুম পড়ায় খুশির আমেজ থাকলেও ত্রিমুখী সংকটে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে তাদের কপালে। কৃষি শ্রমিকের অভাব, হারভেস্টার চালাতে জ্বালানি সংকট এবং ঘন ঘন বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি ও আগাম বন্যার আশঙ্কা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে দোয়ারাবাজারে প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে এখনো প্রায় ৭০ শতাংশ জমির ধান পুরোপুরি পাকে নি। তবে যেসব জমির ধান পেকেছে, সেগুলো কাটতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরা।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড হাওর এলাকায় আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারি করেছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ২৮ এপ্রিল থেকে জেলায় হঠাৎ বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। এতে হাওরের বোরো ফসলের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তাই ৮০ শতাংশ ধান পাকা জমির ধান দ্রুত কাটার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টি আঘাত হানে। গত এক সপ্তাহ ধরে রাতের দিকে এমন আবহাওয়া বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সরেজমিনে সদর ইউনিয়নের নাইন্দা হাওরে গিয়ে দেখা যায়, পানিতে দাঁড়িয়ে ধান কাটছেন আবুল কাশেম ও রুবেল মিয়া নামের দুই শ্রমিক। তারা প্রতিদিন ৭০০ টাকা মজুরিতে কাজ করছেন। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় হারভেস্টার মেশিন ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে পানিতে নেমেই ধান কাটতে হচ্ছে তাদের।
স্থানীয় কৃষক কামরুল ইসলাম বলেন,ধানের ফলন ভালো হলেও তেল সংকটে হারভেস্টার চালানো যাচ্ছে না। আবার শ্রমিকেরও অভাব, বেশি মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। তার ওপর ঝড়-বৃষ্টি আর শিলাবৃষ্টির কারণে ধান ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে।
জানা গেছে, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ৩৯টি ছোট-বড় হাওরে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। সাধারণত বৈশাখের মাঝামাঝি থেকে জ্যৈষ্ঠের শুরু পর্যন্ত ধান কাটা চলে। তবে সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় পাহাড়ি ঢল ও শিলাবৃষ্টির ঝুঁকি বেশি থাকায় অনেক সময় ৮০ শতাংশ ধান পাকলেই কাটা শুরু করেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আশ্রাফুল আলম খাঁন জানান, আগাম বন্যার ঝুঁকি এড়াতে কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরুপ রতন সিংহ বলেন, কৃষকদের হারভেস্টার ব্যবহারে জ্বালানি সরবরাহ সহজ করতে প্রত্যয়ন দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শ্রমিক সংকট মোকাবেলায় বালু মহালে শ্রমিক নিয়োগ সাময়িক বন্ধ রাখা এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে। এছাড়া ইউপি চেয়ারম্যানদের সার্বিক সহযোগিতার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে