জৈন্তাপুর প্রতিনিধি:
আগাম বন্যার আশঙ্কায় সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন হাওর ও নিচু এলাকার কৃষকরা আধাপাকা ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন। এখনও পুরোপুরি পরিপক্ষ না হলেও সম্ভাব্য পানির চাপ থেকে ফসল রক্ষায় ঝুঁকি নিয়েই মাঠে নেমেছেন তারা। এতে একদিকে উৎপাদন কমে যাওয়ার শঙ্কা, অন্যদিকে শ্রমিক ও আধুনিক কৃষিযন্ত্রের সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা।
এদিকে, জৈন্তাপুর উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জৈন্তাপুরের সকল কৃষকদের আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে, সতর্কবার্তায় কৃষি অফিস জানান, সম্মানিত কৃষক ভাইদের আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কৃষি অফিস জৈন্তাপুর এর পক্ষ থেকে জরুরী বার্তা। চেরাপুঞ্জি সহ দেশের পূর্বাঞ্চলে আগামী সাত দিন ভারী বৃষ্টিপাত সহ পাহাড়ী ঢলে আকষ্মিক বন্যা সৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা থাকায় আপনাদের বোরো ফসল ৭৫% এর উপরে পাকা হলেই দ্রুত কেটে ফেলার অনুরোধ জানানো যাচ্ছে । নিচু জমিগুলি থেকে অন্যান্য ফসল যথাসম্ভব উত্তোলন করে ফেলারও অনুরোধ জানানো হয়েছে ।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে ভারী বৃষ্টির কারণে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনায় হাওরাঞ্চলে পানি ঢোকার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে পাকা হওয়ার অপেক্ষা না করে আধাপাকা ধান কাটার কাজ শুরু করেছেন তারা। এতে ধানের ফলন ও গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কৃষকরা জানান, এই সময়ে ধান কাটার জন্য পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। শ্রমিক সংকটের কারণে মজুরি বেড়ে গেছে দ্বিগুণেরও বেশি। ফলে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে আধুনিক যন্ত্র যেমন কম্বাইন হারভেস্টার ব্যবহার করতে চাইলেও চাহিদা অনুযায়ী যন্ত্র না থাকায় সময়মতো ধান কাটতে পারছেন না।
স্থানীয় এক কৃষক বলেন, “ধান পুরোপুরি পাকেনি, কিন্তু পানি চলে এলে সব শেষ হয়ে যাবে। তাই বাধ্য হয়ে আগেই কাটছি। শ্রমিকও পাচ্ছি না, যন্ত্রও কম—সব মিলিয়ে বড় বিপদে আছি।”
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাওরাঞ্চলে আগাম বন্যা একটি নিয়মিত ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এজন্য আগাম প্রস্তুতি, পর্যাপ্ত যন্ত্র সরবরাহ ও কৃষকদের সহায়তা বাড়ানো জরুরি। নইলে প্রতিবছরই একই সংকটে পড়তে হবে কৃষকদের।
এবিষয়ে, জৈন্তাপুর উপজেলা কৃষি অফিসার হুমায়ুন দিলদার বলেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এবছর মোট বোরো আবাদ হয়েছে ৫৭২৬ হেক্টর এপর্যন্ত কর্তন হয়েছে ২১৯১ হেক্টর। উপজেলা থেকে ধান কর্তনে আধুনিক যন্ত্র (কম্বাইন হারভেষ্টার) ৮টি দেওয়া হয়েছে। জৈন্তাপুরে আপাতত কৃষক শ্রমিক সংকট নেই। শ্রমিকের মজুরী দিগুণের বিষয়ে কোন তথ্য নেই।
এদিকে কৃষকদের দাবি, সরকারিভাবে আরও বেশি কৃষিযন্ত্র সরবরাহ এবং শ্রমিক সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে তাদের ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।
