নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, কমলগঞ্জ:
গত কয়েকদিনের প্রচণ্ড তাপদাহে চা গাছে লাল মাকড়শা এর আক্রমন দেখা দিয়েছে। কমলগঞ্জ উপজেলার অধিকাংশ চা বাগানের সেকশন সমুহে এ চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। বাগানের চা গাছ সমুহ লালচে রং ধারণ করে মাকড়শা ও মড়কের প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে। ডানকান ব্রাদার্স, ন্যাশনাল টি কোম্পানী ও ব্যক্তি মালিকানাধীন এসব চা বাগানে চা গাছে লাল রোগের (রেড স্পাইডারের) আক্রমন শুরু হয়েছে।
এতে চায়ের উৎপাদনেও প্রভাব ফেলার আশঙ্কা রয়েছে। তবে চা বাগান ম্যানেজমেন্ট এই রোগের প্রাদুর্ভাব কাটিয়ে উঠছে বলে দাবি করেছেন।
সরেজমিন কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগরসহ কয়েকটি চা বাগান ঘুরে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি সময়ে সিলেট অঞ্চলে বৃষ্টিপাত হলেও প্রচণ্ড তাপদাহে রেড স্পাইডারের (লাল রোগ) আক্রমন শুরু হয়েছে। উপজেলার ২২টি চা বাগানের অধিকাংশ বাগানেই এ রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। কিছু কিছু স্থানে সেচের সুবিধা থাকলেও চা বাগানের পার্শ্ববর্তী নদী, ছড়া ও জলাশয় সমুহে পানি শুকিয়ে যাওয়ায় চায়ের টিলায় যথাযথভাবে সেচ দেয়া সম্ভব হয়নি। চা বাগানের টিলাভূমিতেও ছায়াবৃক্ষের পরিমাণ মারাত্মকহারে কমেছে। ছায়াবৃক্ষ প্রচণ্ড তাপদাহ, অতিবৃষ্টি রোগবালাই থেকে চা গাছকে রক্ষা করে। তাছাড়া আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবে প্রচণ্ড তাপদাহে চা গাছে লাল রোগের আক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। ফলে কঁচি চা গাছ শুকিয়ে মাকড়শা ও মশার উপদ্রবে পাতা লালচে হয়ে মরে যেতে শুরু করেছে।
ন্যাশনাল টি কোম্পানী (এনটিসি) ও ডানকান ব্রাদার্সের চা বাগানের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দু’জন কর্মকর্তা জানান, সাধারণত ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে চা বাগানের প্লান্টেশন এলাকার চা গাছ কাটিং করা (আগাছা ছেটে দেওয়া) হয়। আর এসব কাজের পর নিয়মিত সেচ দেয়ার প্রয়োজন হয়। তবে পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকায় সেচের অভাবে এবং প্রচণ্ড হিটে বিভিন্ন চা বাগানে লাল রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে। এসব কারনে চায়ের উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে এবং চা শিল্পে ব্যাপক ক্ষতিরও আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশ টি বোর্ড (বিটিবি) এর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতিকুল আবহাওয়ায় দীর্ঘ দু’তিন মাস যাবত চা বাগানের বিভিন্ন টিলায় পাহাড়ি ছড়া, লেক ও গভীর নলকূপ থেকে সেচ দেওয়া হয়। বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পানির স্তর নিচে নামতে শুরু করে এবং বিভিন্ন নদী, ছড়া শুকিয়ে যাওয়ায় সেচের অভাবে চা গাছে পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
চা শিল্পে কর্মরত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে চা শিল্পেও বৈষ্ণিক উষ্ণায়নের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। গাছ চোরদের কারনে চা বাগানের ছায়াদানকারী মূল্যবান গাছ গাছালি কেটে উজাড় করছে। অন্যদিকে সম্প্রতি সময়ে প্রচণ্ড তাপদাহের কারণে লাল রোগের আক্রমন ব্যাপকতর হচ্ছে।
শমশেরনগর কানিহাটি চা বাগানের শ্রমিক নেতা সীতারাম বীন বলেন, চা বাগানের বিভিন্ন টিলাভূমিতে এখন দেখা যায় বৃক্ষ শুন্য। একদিকে চা বাগানে গাছগাছালি কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবে অতিরিক্ত গরমে চা গাছে লাল রোগ দেখা দিয়েছে। ফলে উৎপাদনও কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শমশেরনগর চা বাগান ব্যবস্থাপক মো. জাকির হোসেন ও সহকারী ব্যবস্থাপক ইকবাল হোসেন বলেন, এটি চা গাছে লাল রোগের আক্রমন। তবে এখন নিয়ন্ত্রণের দিকে চলে আসছে। এই মৌসুমে সাধারনত চা গাছে লাল রোগের আক্রমন হয়ে থাকে।
ন্যাশনাল টি কোম্পানী (এনটিসি) ডিজিএম মো. শফিকুল ইসলাম আধুনিক কাগজকে বলেন, প্রচণ্ড গরমের কারনে চা গাছে লাল মাকড়শা এর আক্রমনে গাছের পাতা লালচে হয়ে গেছে। এতোদিন সেচ দিয়ে ও বালাইনাশক ব্যবহার করে চা গাছ ও চায়ের চারা কিছুটা রক্ষার চেষ্টা করলেও তা রোধ করা যায়নি। এই অবস্থায় কাটিয়ে উঠার চেষ্টা চলছে।


