আধুনিক ডেস্ক ::
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার একটি বাদে বাকি সব জাহাজই আটক করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করা বা আইনসম্মত নৌ-অবরোধ লঙ্ঘন করার চেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, সব যাত্রী নিরাপদে ও সুস্থ আছেন। তাঁদেরকে নিরাপদে ইসরায়েলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখান থেকে তাদের ইউরোপে ফেরত পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে, আরেকটি জাহাজ রয়েছে। সেই জাহাজ যদি সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করে অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করে, তবে সেটিকেও আটক করা হবে। ফ্লোটিলা ট্র্যাকারের তথ্য অনুযায়ী, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলায় মোট নৌযান ছিল ৪৪টি।
ইসরায়েলের বাহিনী কয়েকটি যুদ্ধ জাহাজ নিয়ে সুমুদ ফ্লোটিলার নৌযানগুলো আটক করছে। কিছু আটক করা হয়েছে বুধবার (১ অক্টোবর)। বাকিগুলো বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) আটক করা হয়। যেসব নৌযান আটক করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে সুইডেনের জলবায়ু ও অধিকারকর্মী গ্রেটা থুনবার্গসহ বিখ্যাত অনেকে রয়েছেন।
প্রথম দফায় আটক নৌযানগুলো বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুরের মধ্যে ইসরায়েলের আশদোদ বন্দরে নিয়ে যাওয়া হতে পারে। বন্দরটি অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে। ইসরায়েল জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের প্রক্রিয়া শেষে উড়োজাহাজে করে ইউরোপে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
গাজা থেকে ১২৯ কিলোমিটার দূরে ভূমধ্যসাগরে থাকা অবস্থায় গতকাল রাতে ফ্লোটিলায় প্রথমবারের মতো সরাসরি বাধা দেয় ইসরায়েলি বাহিনী। গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা সমুদ্রপথে গাজায় ত্রাণ নিয়ে যাওয়ার একটি বৈশ্বিক উদ্যোগ। এই নৌবহরে রয়েছে ৪০টির বেশি বেসামরিক নৌযান। বহরে প্রায় ৪৪টি নৌযানে ৫০০ মানুষ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, আয়ারল্যান্ড, ফ্রান্স, বেলজিয়ামের নাগরিকসহ ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নির্বাচিত প্রতিনিধি, আইনজীবী, অধিকারকর্মী, চিকিৎসক ও সাংবাদিক রয়েছেন।
আগস্টের শেষ দিকে যাত্রা শুরু করা এই বহরে ওষুধ ও খাদ্য বহন করা হচ্ছিল। গাজার ওপর ইসরাইলের অবরোধের বিরুদ্ধে এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে আলোচিত প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়া এই ফ্লোটিলার কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। তুরস্ক, স্পেন ও ইতালিসহ কয়েকটি দেশ নিজেদের নাগরিকদের সহায়তার জন্য নৌযান ও ড্রোন পাঠায়। তবে ইসরাইল বারবার সতর্ক করেছিল নৌযানগুলোকে ফিরে যেতে।
তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ফ্লোটিলাগুলোতে ইসরাইলি অভিযানের নিন্দা জানিয়ে একে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করেছে। ইস্তান্বুলের প্রধান প্রসিকিউটরের দপ্তর জানিয়েছে, আটক ২৪ তুর্কি নাগরিকের ঘটনায় তারা তদন্ত শুরু করেছে।
এদিকে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো ফ্লোটিলায় দুই কলম্বিয়ান নাগরিক আটক হওয়ার পর ইসরাইলের পুরো কূটনৈতিক প্রতিনিধিদলকে বহিষ্কার করেছেন এবং ইসরাইলের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করেছেন।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমও ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলি বাহিনী ২৩ জন মালয়েশিয়ানকে আটক করেছে।


