নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, কমলগঞ্জ:
সাপ্তাহিক ছুটি কিংবা উৎসবের সময়ে কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে রেকর্ড সংখ্যক পর্যটকের ঢল নামে। লাউয়াছড়া বনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী দেখতে মূলত পর্যটকরা এখানে ভিড় করেন। তবে পর্যটকদের সুবিধার জন্য এই বনে মিনি মার্কেটসহ নানা স্থাপনা গড়ে উঠছে। এতে বন্যপ্রাণির অবাধ বিচরনে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। যানবাহনের হুড়োহুড়ি, গাছ চুরি, বনবিভাগের স্বল্প সংখ্যক লোকবল, শুষ্ক মৌসুমে প্রাকৃতিক পানি, খাবার ও নিরাপদ বাসস্থান সংকট সব মিলিয়ে উদ্যানের জীববৈচিত্র্য ও প্রকৃতি সুরক্ষা নিয়ে পরিবেশকর্মীসহ অনেকেই উৎকন্ঠিত।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বন্যপ্রাণী অভয়ারন্য এলাকা এক টুকরো লাউয়াছড়া বন। এই বনের মাঝদিয়ে রেলপথ, সড়কপথ ও বিদ্যুৎ লাইন। এছাড়াও গ্যাস ফিল্ড, গ্যাস লাইন বয়েছে। ১৯৯৬ সালে ১২৫০ হেক্টর আয়তনের লাউয়াছড়াকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণার পর থেকে এখানে পর্যটকদের সমাগম বাড়ছেই। বনকে পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তুলতে রেস্টহাউস, স্টুডেন্ট ডরমিটরি, প্রকৃতি ব্যাখ্যা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
অন্যদিকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের গাঁ ঘেষে আশপাশ বনজঙ্গল ও টিলার মাটি কেটে স্থাপিত হচ্ছে বাহারি নমুনার রিসোর্ট, কর্টেজ। এসব রিসোর্ট, কটেজে চলছে বাণিজ্যিক কার্যক্রম। এতে বনে সহজে প্রবেশে পর্যটকদের জন্য সুবিধা বয়ে আনছে। ফলে বনের ভেতরে দল বেঁধে মানুষের অবাধ বিচরন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বন্যপ্রাণীর জন্য খাবার সংগ্রহ ও বিচরনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব বিভিন্ন কর্মকান্ডে বন্যপ্রাণীর খাবার ও আবাসস্থল বিনষ্ট হচ্ছে। যে কারণে খাবারের সন্ধানে জঙ্গলের দূর্লভ প্রাণীগুলো জনপদে ছুটে এসে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানুষের হাতে ধরা পড়ে অথবা গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা যাচ্ছে।
এছাড়াও জাতীয় উদ্যানের ভেতর যানবাহনের শব্দ, অত্যধিক পর্যটক ও যানবাহনের হুড়োহুড়ি বনাঞ্চলসহ ন্যাশনাল পার্কে অবস্থানরত জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হয়ে দেখা দিচ্ছে।
প্রতিনিয়ত অত্যধিক পরিমাণে পর্যটকের আগমন, হাল্লা-চিৎকার ও যানবাহনের হুড়োহুড়ি জাতীয় উদ্যানের শান্ত নিবিড় পরিবেশকে অতিষ্ঠ করে তুলছে। পাশাপাশি বনের গাছগাছালিও চুরি হচ্ছে। হরিণসহ বন্যপ্রাণী শিকারও বন্ধ হচ্ছে না। জ্বালানি কাঠের সুবাদে অনেক গাছ বিলীন হচ্ছে। ফলে বনের ঘন বনজঙ্গল ফাঁকা হয়ে পড়ছে। বনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বদৌলতে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা, প্লাস্টিক ও পলিথিনেও ভরপুর হয়ে উঠছে। এ অবস্থায় পূর্বের মতো জীবজন্তু ও পশুপাখির দেখা সম্ভব হচ্ছে না বলে অনেকেই মন্তব্য করছেন।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রাক্তন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বলেন, একটি বনের ভেতরে এভাবে দোকানপাট স্থাপন করা মোটেও ঠিক হয়নি। এতে বন ও বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে।
মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জির মন্ত্রী জিডিসন প্রধান সুচিয়ান ও কমলগঞ্জের সংবাদ কর্মী আহমেদুজ্জামান বলেন, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এমনিতেই হুমকির মুখে। সময়ের সাথে সাথে বনজঙ্গল হ্রাস পাচ্ছে। পর্যটকের সংখ্যা ও নানা ধরণের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরমধ্যে বনের ভেতরে মিনি মার্কেট মোটেও সুখকর নয়। বন্যপ্রাণীর কোলাহল মুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য তারা জোর দাবি জানান
এব্যাপারে জানতে চাইলে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের মৌলভীবাজারস্থ নবাগত বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবুল কালাম এবিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।


