ধর্মপাশা ও মধ্যনগর প্রতিনিধি:
প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিতকরণ ও বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষ্যে দেশের ৬২ জেলার ১৫০টি উপজেলায় চালু হতে যাচ্ছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্কুল ফিডিং কর্মসূচি।
দুটি প্রকল্পের আওতায় সেপ্টেম্বর মাস থেকে দেশে স্কুল ফিডিং কার্যক্রম শুরু হবে। প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার বাইরে দেশের ১৬৫টি উপজেলাসহ বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার সবগুলো উপজেলায় এই কর্মসূচি চালু হবে।
এ কর্মসূচির আওতায় সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর, ছাতক, জগন্নাথপুর, জামালগঞ্জ, শাল্লা এবং শান্তিগঞ্জ উপজেলার প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় যুক্ত হলেও সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও নবগঠিত মধ্যনগর উপজেলা এ কর্মসূচি থেকে বাদ পড়েছে। এ নিয়ে দারিদ্র্য পীড়িত ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের ভাষ্য, দারিদ্র্যসীমার নিচের এলাকাগুলোতে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন হবে। বাংলাদেশের দারিদ্র্য মানচিত্র-২০২২-এর তথ্য অনুযায়ী, ধর্মপাশা ও মধ্যনগরের বাসিন্দারা তালিকার মাঝামাঝি অবস্থানে (২১ দশমিক ১৫ শতাংশ) থাকায় এ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়নি।
তাদের দাবি, কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়া জেলার অন্যান্য উপজেলার দারিদ্র্যতার হার কোনো ভাবেই ধর্মপাশা ও মধ্যনগরের চেয়ে বেশি হতে পারে না। এ কর্মসূচিতে অনেক ধনী উপজেলার নাম যুক্ত থাকলেও দারিদ্র্য পীড়িত ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলা বৈষম্যের শিকার হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দারের বাড়ি মধ্যনগরে। তার সুদৃষ্টি কামনা করে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তারা।
এর আগে ২০১০ সালে স্কুল ফিডিং কার্যক্রম চালু করে সরকার। গত বছরের জুন মাসের পর থেকে এ কার্যক্রম বন্ধ ছিল।
স্থানীয়রা জানান, স্কুল ফিডিং কার্যক্রম বন্ধের মারাত্মক প্রভাব পড়েছে দূর্গম হাওরবেষ্টিত ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায়। উপজেলার প্রায় সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী উপস্থিতি কমেছে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত। স্কুল ফিডিং কার্যক্রম শুরু করা না হলে পুরো সময়ে শিক্ষার্থী ধরে রাখা সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন শিক্ষকরা।
শিশু স্কুলে যেতে না চাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ওই উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা। তাদের মতে, স্কুল ফিডিং কার্যক্রম শুরু না হলে এত সমস্যা হতো না। কিন্তু শুরু করে আবার বন্ধ হওয়ায় স্কুলগামী শিশুদের কোমল মনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বেশিরভাগ শিশু বিস্কুট ছাড়া স্কুলে যেতে চায় না।
মধ্যনগর উপজেলার কাকরহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমূল গনী তালুকদার বলেন, মধ্যনগর উপজেলার বেশিরভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। ভৌগোলিক কারণে অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে শিশুদের শুদের স্কুলমুখী করা কষ্টসাধ্য। এর মধ্যে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার কমে গেছে।
ধর্মপাশা উপজেলার ১নং মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলে, আমরা আগে বিদ্যালয়ে এলে টিফিনে আমাদের বিস্কুট দেয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে আমরা এখন আর বিস্কুট পাচ্ছি না। যার ফলে আমাদের মধ্যে অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে আসতে চায় না।
মধ্যনগরের ইউএনও উজ্জ্বল রায় বলেন, তিনি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দারের সঙ্গে কথা বলেছেন। উপদেষ্টা তাকে জানিয়েছেন, প্রকল্পটি দারিদ্র্যসীমার নিচের এলাকা গুলোতে চলবে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর এই শর্তের বাইরে থাকায় এ প্রকল্প থেকে বাদ পড়েছে।


