ধর্মপাশা – মধ্যনগর প্রতিনিধ:
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নে কবরস্থানের উন্নয়ন প্রকল্পের সরকারি বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইনামুল গনি তালুকদার রুবেল ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক অমিত হাসান রাজুর বিরুদ্ধে বংশীকুন্ডা গ্রামের বাসিন্দা মাজহারুল ইসলাম ও মোঃ জুলহাস মিয়া বুধবার দুপুরে মধ্যনগর (ভারপ্রাপ্ত) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর এ অভিযোগ জমা দেন।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে বংশীকুন্ডা সার্বজনীন কবরস্থানের উন্নয়ন, সংস্কার ও অবকাঠামো নির্মাণের জন্য সরকারিভাবে ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করে অভিযুক্তরা নিজেদের পারিবারিক কবরস্থানে আংশিক কাজ সম্পন্ন করেন। ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইনামুল গনি তালুকদার রুবেল তার প্রভাব খাটিয়ে প্রকল্পের কাজ নিজ পারিবারিক কবরস্থানে স্থানান্তর করেন। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ছিলেন বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক অমিত হাসান রাজু এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ইনামুল গনি তালুকদার রুবেল। অভিযোগকারীদের দাবি, তাদের যোগসাজশে প্রকল্পের নামে নামমাত্র কাজ দেখিয়ে অধিকাংশ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়,এছাড়া ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরেও পারিবারিক কবরস্থানের নামে পুনরায় বরাদ্দ পাওয়া ২ লাখ টাকা যথাযথভাবে ব্যয় না করে আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ কারীদের ভাষ্য, একই ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে ইনামুল গনি তালুকদার রুবেল বলেন, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের প্রকল্পে তিনি বাস্তবায়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক থাকলেও কাজ বাস্তবায়ন করেছেন কমিটির সভাপতি অমিত হাসান রাজু। তিনি দাবি করেন, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে তার পারিবারিক কবরস্থানের জন্য বরাদ্দকৃত ২ লাখ টাকার কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কর্মকর্তা অবগত আছেন।
এ বিষয়ে (ভারপ্রাপ্ত) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় ঘোষ বলেন, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
