শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের পিঠাপসী-ঘুড়াডুম্বুর গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ কয়েকদিন ধরে যোগাযোগের একমাত্র সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েন। সড়কটি ভেঙে গিয়ে খানা-খন্দে ভরে যাওয়ায় এলাকার মানুষ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।
ভুক্তভোগীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের দুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরলে বিষয়টি নজরে আসে উপজেলা প্রশাসনের। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ শাহজাহান তাৎক্ষণিকভাবে উদ্যোগ নেন। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং দ্রুত সড়কটি সংস্কারের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
রোববার বিকালে ইউএনও পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের পিঠাপসী-ঘুড়াডুম্বুর সড়ক পরিদর্শন করেন। এ সময় উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাজেদুল আলম, ইউপি সদস্য ওমর ফারুক দীপু, জাহাঙ্গীর আলম, খালেদ আহমদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে সড়কটিতে বড় বড় খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়, ফলে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
এলাকাবাসী জানান, কোনো পূর্ব অনুরোধ ছাড়াই ইউএনও সরেজমিনে এসে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় তারা স্বস্তি পেয়েছেন। তাদের আশা, দু-এক দিনের মধ্যেই সড়কটি আবার চলাচল উপযোগী হবে।
ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি বেহাল অবস্থায় থাকলেও সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। ইউএনও’র তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাজেদুল আলম জানান, সড়কটির কাজ পূর্ববর্তী সরকারের আমলে টেন্ডার করা হলেও ঠিকাদার কাজ অসমাপ্ত রেখে চলে যান। এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে নতুন করে টেন্ডার আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে। আপাতত জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এক-দুই দিনের মধ্যে যান চলাচল স্বাভাবিক হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, মানুষের দুর্ভোগের কথা জেনে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই সড়কটি চলাচলের উপযোগী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


