জৈন্তাপুর প্রতিনিধি:
সীমান্তবর্তী জনপদ জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক শূন্যতা পূরণে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। সবকিছু ঠিক থাকলে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগের জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সম্ভাব্য এই নিয়োগকে ঘিরে স্থানীয় রাজনীতি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে চায়ের আড্ডা, সবখানেই এখন একটাই আলোচনা, কে হচ্ছেন জৈন্তাপুরের পরবর্তী প্রশাসক।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক দায়িত্ব অর্পণের লক্ষ্যে দলীয় হাইকমান্ড একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রস্তুত করেছে। গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তৈরি এ তালিকায় রয়েছেন স্থানীয় রাজনীতির অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী কয়েকজন নেতা।
আলোচনায় থাকা সম্ভাব্যদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক বৃহত্তর ফতেপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন, বর্তমান উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ, সাবেক উপজেলা বিএনপি সভাপতি ও দরবস্ত ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এনায়েত উল্লাহ, সাবেক উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক চিকনাগুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবিএম জাকারিয়া, সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহিবুল হক মুহিব।
এছাড়াও বর্তমান উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাফিজ, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ও দরবস্ত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাহারুল আলম বাহার, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও নিজপাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইন্তাজ আলী, সাবেক ছাত্রনেতা ও ব্যবসায়ী ইলিয়াছ উদ্দীন লিপু এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তাঁতীদল সিলেট জেলা শাখার সদস্য সচিব আলতাফ হোসেন বিলালের নামও আলোচনায় রয়েছে।
তালিকায় থাকা নেতাদের মধ্যে যেমন দীর্ঘদিনের রাজপথ কাঁপানো অভিজ্ঞ প্রবীণ রাজনীতিবিদ রয়েছেন, তেমনি আধুনিক ও গতিশীল নেতৃত্বের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনায় আছেন কয়েকজন নবীন মুখও। ফলে জৈন্তাপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে এক ধরনের স্নায়ুযুদ্ধ।
সূত্র জানায়, এবারের প্রশাসক নিয়োগে প্রার্থীর অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা, দলীয় আনুগত্য, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রতিটি সম্ভাব্য প্রার্থীর সামাজিক অবস্থান, এলাকায় প্রভাব ও বিগত দিনের কর্মকাণ্ড নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন নীতি-নির্ধারকদের কাছে পাঠানো হয়েছে। কোনো ধরনের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশনাও রয়েছে।
প্রশাসক নিয়োগের সম্ভাব্য খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই জৈন্তাপুরে তৈরি হয়েছে নির্বাচনী আমেজ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও সমর্থকদের পোস্ট, মতামত ও বিশ্লেষণে সরগরম রাজনৈতিক অঙ্গন।
সচেতন মহলের মতে, জৈন্তাপুরের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সচল রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে একজন দক্ষ, সৎ ও জনবান্ধব প্রশাসকের বিকল্প নেই। কেউ কেউ মনে করছেন অভিজ্ঞ নেতৃত্বই এগিয়ে থাকবে, আবার অনেকের মতে পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে আসতে পারেন কোনো নতুন মুখ।
উপজেলার এক দায়িত্বশীল নেতা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানান, ইতোমধ্যে ৫ থেকে ৬ জন ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতার নাম নিয়ে দলীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। শেষ পর্যন্ত যিনি যোগ্য বিবেচিত হবেন এবং দলীয় হাইকমান্ড যাকে মনোনীত করবে, তিনিই উপজেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পাবেন।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাফিজ বলেন, বিএনপি পরিবারের পরীক্ষিত, ত্যাগী ও দায়িত্বশীল নেতাদের প্রোফাইল দলীয় হাইকমান্ড এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে রয়েছে।হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, আমরা সবাই তাকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।
তিনি আরও জানান, সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও সরকারের শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী কারও কাছ থেকে আলাদা করে কোনো নামের তালিকা চাননি। সংশ্লিষ্ট নেতাদের প্রোফাইল তার কাছে আগে থেকেই রয়েছে। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে গত ১৫ মার্চ স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, খুব শিগগিরই উপজেলা পরিষদগুলোতেও প্রশাসক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। ঈদের পর পর্যায়ক্রমে পৌরসভাগুলোতেও প্রশাসক নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে দেশের ৪৯৩টি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ৬০টি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ৩২৩টি পৌরসভার মেয়রকে অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়।
স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।
চূড়ান্ত ঘোষণার অপেক্ষা প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে, ঈদের আগেই যেকোনো সময় জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগের চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।
শেষ মুহূর্তের এই প্রতিযোগিতায় কে এগিয়ে থাকবেন, তা জানতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে পুরো জৈন্তাপুরবাসী।
