শাবি প্রতিনিধি:
হাওর অঞ্চলের জলবায়ুজনিত সমস্যার উদ্ভাবনী সমাধান খুঁজতে সিলেটে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘হাওর হ্যাকাথন ২০২৬’-এর চূড়ান্ত পর্ব। বুধবার (১১ মার্চ) নগরীর গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
হ্যাকাথনটির আয়োজন করে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (সি৩ইআর)। আয়োজনে সহযোগিতা করে কেয়ার বাংলাদেশ এবং যুক্তরাজ্য সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্প ‘নবপল্লব’। এছাড়া অনুষ্ঠানের সহযোগী হিসেবে ছিল আশার আলো, গ্রিনপাথ, ইউকেন, সানশাইন ফাউন্ডেশন, ইকো নেটওয়ার্ক গ্লোবাল ও ব্রাইটার্স।
অনুষ্ঠানে সিলেট বিভাগের চার জেলার বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ১২টি দল তাদের উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন করে। এ সময় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, পরিবেশবিদ, মিডিয়া প্রতিনিধি এবং তরুণ উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সি৩ইআর-এর ডেপুটি পরিচালক রউফা খানম। নবপল্লব প্রকল্পের পটভূমি তুলে ধরেন নবপল্লবের ডেপুটি চিফ অব পার্টি মৃত্যুঞ্জয় দাশ। হ্যাকাথনের কার্যপ্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেন সি৩ইআর-এর সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট ইশতিয়াক ইবনে রউফ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ও সি৩ইআর-এর উপদেষ্টা ড. আইনুন নিশাত। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সি৩ইআর-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর শারমিন নাহার নিপা।
হ্যাকাথনে অংশগ্রহণকারী ১২টি দলের মধ্যে উদ্ভাবন, কমিউনিটির উপর প্রভাব এবং স্কেলেবিলিটিসহ বিভিন্ন মানদণ্ড বিবেচনায় বিচারকরা তিনটি দলকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। বিজয়ী দলগুলো হলো- কোয়ান্টাম ফাইভ, গ্রিন নেক্সাস ও ফার্ম নেক্সা। প্রত্যেক বিজয়ী দলকে ২৫ হাজার টাকা করে পুরস্কার প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য, হ্যাকাথনের প্রথম ধাপে আয়োজকরা সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ- এই চার জেলার জন্য চারটি স্থানীয় সংগঠন এবং দুটি জাতীয় সংগঠনকে অংশীদার হিসেবে নির্বাচন করে। পরে প্রতিটি জেলার নির্বাচিত সংগঠন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে গুগল ফর্মের মাধ্যমে তরুণদের কাছ থেকে উদ্ভাবনী আইডিয়া সংগ্রহ করে।
সিলেট জেলার দায়িত্ব পালন করে যুব সংগঠন গ্রিনপাথ। সংগঠনটি প্রচারণার মাধ্যমে তরুণদের কাছ থেকে বিভিন্ন উদ্ভাবনী ধারণা সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে এসব ধারণা থেকে বাছাইকৃত আইডিয়াগুলো নিয়ে জেলা পর্যায়ে অফলাইন কর্মশালার আয়োজন করা হয়। সেখান থেকে নির্বাচিত সেরা আইডিয়াগুলো নিয়ে হ্যাকাথনের চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
