এম কে তুহিন ::
নগরবাসীর বিনোদনের জন্য ২০২২ সালে উদ্বোধন হয় সিলেট নগরীর ধোপাদিঘীরপাড় ওয়াকওয়ে। এখানে মানুষ পরিবার পরিজনসহ ঘুরে আনন্দ উপভোগ করে। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন হলেও লিজ দিয়ে রেখেছে সিটি কর্পোরেশন। কিন্তু সম্পতি এখানে প্রকাশ্যে অশালীন ভিডিও ধারণ, উচ্চস্বরে গান-বাজনা ও ধূমপান অস্বস্তিতে ফেলছে ঘুরতে আসা মানুষদের। এতে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ ও অভিবাবকরা।
ঘুরতে আসা ইমাদ আহমদ বলেন, এই ওয়াকওয়েতে সবাই সময় কাটানোর জন্য পরিবার নিয়ে আসে, হাটার জন্য আসে। অনেক সময় দেখা যায় এখানে অশালীন ভিডিও হচ্ছে যার ফলে পরিবার নিয়ে বেড়ানো যায় না। এই সিলেটের ভেতরে এই ধরনের কার্যকলাপ যে বা যারা করে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা উচিত। এই অশালীন ভিডিও সিলেটকে নীচে নামাচ্ছে। সবকিছুই শালীনতার ভিতরে করতে হবে। আমার পরিবার নিয়ে এসে যখন দেখি গান-বাজনা হচ্ছে তখন একটা অস্বস্তিতে পড়ে যাই। পরিবার নিয়ে বিনোদনের জন্য এসে আর বিনোদন পাওয়া হয় না। দায়িত্বশীলদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এই নাচা-নাচির ভিডিও নোটিস করে তাদেরকে বাধা দেওয়া। সিলেটের জন্য এগুলো লজ্জাজনক।
রফিক মিয়া বলেন, এখানে এসে গান-বাজনা দেখে খারাপ লাগে। হাঁটাহাঁটির সময় নাচার দৃশ্য দেখলে অনেক সময় অস্বস্তির মধ্যে পড়ে যাই।
মাসুম মিয়া বলেন, গান-বাজনা এই পরিবেশের জন্য পারতপক্ষে ভালো নয়। কারণ অনেকেই পরিবারসহ বেড়াতে আসে এখানে। সবাই এই জিনিসগুলো গ্রহণ করবে না। অনেক সময় বিনোদনের জন্য গান-বাজনা করতে পারে কিন্তু অশ্লীল ভিডিও গ্রহণযোগ্য নয়।
উচ্চস্বরে গান বাজনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। মাহফুজ হাসান মামুন নামের একজন ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, ধোপাদিঘির পারের ওয়াকওয়েটা সরকার বানিয়েছে শহরের মানুষের একটু স্বস্তি, হাঁটাহাঁটি আর মানসিক ক্লান্তি দূর করার জন্য। এটা কোনো অশালীন আড্ডা, চেঁচামেচি বা বেপরোয়া আচরণের জায়গা নয়।
দুঃখের বিষয়, এখন এই জায়গাটা কিছু অসচেতন মানুষের কারণে কার্যত জিনায় ভরে গেছে। লজ্জাহীন আচরণ, বেসরম কথা, অপ্রয়োজনীয় হৈচৈ আর বিশৃঙ্খল আড্ডায় পরিবেশ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে পরিবার, নারী, বয়স্ক মানুষ—কেউই আর স্বস্তিতে সেখানে সময় কাটাতে পারছেন না।
এই ওয়াকওয়ের সম্মান রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। প্রশাসনের নজরদারি যেমন দরকার, তেমনি আমাদের নিজেদেরও একটু বিবেক ও শালীনতা থাকা জরুরি। নইলে শহরের জন্য বানানো এই সুন্দর জায়গাটা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্মসচিব) মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার আধুনিক কাগজকে বলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে ধোপাদিঘিরপাড় দিঘির চারপাশে ওয়াকওয়ে করা হয়েছে। এখানে লোকজন আসে হাঁটাচলা করে খোলামেলা পরিবেশ পাচ্ছে। আমরা যখন এই ওয়াকওয়েটা লিজ দিয়েছি লিজিকে অনেকগুলো শর্ত দিয়ে। এখানে অশ্লীল ভিডিও, গানবাজনার অভিযোগগুলো আমলে নিলাম এবং ইজারাদারকে বলব এটা দেখার জন্য। আমাদেরও মেকানিজম আছে আমরা এটা দেখবো। অবশ্যই নগরবাসীর বিনোদনের জন্য একটা স্পেস লিজআউট করা ওইখানে একটা শৃঙ্খলার ভিতরে ব্যবহার করতে হবে। তারা যেকেন কিছু এখানে অনুমতি দিতে পারে না। আমরা এই বিষয়টা দেখবো।
