ধর্মপাশা – মধ্যনগর প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই চলছে ফসলি জমির মাটি কাটার মহোৎসব। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দিনে-রাতে ভেকু (এক্সকেভেটর) দিয়ে কাটা কাটা হচ্ছে অবৈধ মাটি ।
ফসলি জমির পাশাপাশি সরকারি খাস জমি, খাল-বিলও বাদ পড়ছে না মাটি খেকোদের হাত থেকে। এ অঞ্চলের অধিকাংশ জমি উর্বর পলি মাটিতে সমৃদ্ধ। অথচ এসব কৃষি জমি নষ্ট করে এক্সকেভেটর দিয়ে মাটি কেটে বিক্রি করা হলেও উপজেলা প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় মাটি ব্যবসায়ীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
উল্লেখ্য, এসব জমিতে ধান, সরিষা ও বিভিন্ন ধরনের সবজি ব্যাপকভাবে উৎপাদিত হয়। কিছু অসাধু মাটি ব্যবসায়ী কৃষকদের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে জমির উপরের উর্বর টপ সয়েল কিনে নিচ্ছেন। পরে সেই মাটি নির্মাণাধীন
বাড়ি উঁচু করা গর্ত ভরাট করা হচ্ছে। মাটি পরিবহনের সময় গ্রামীণ রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে রাস্তায় ধুলা উড়ে স্বাভাবিক চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, টপ সয়েলই জমির প্রাণ। জমির ওপরের আট থেকে দশ ইঞ্চি অংশকে টপ সয়েল বলা হয়, যেখানে জৈবশক্তি ও উর্বরতা সবচেয়ে বেশি থাকে। এই টপ সয়েল কেটে নেওয়া হলে কৃষি উৎপাদন ধ্বংসের মুখে পড়বে। যেভাবে মাটি বিক্রি হচ্ছে, তাতে ভবিষ্যতে ফসল উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে কমে যেতে পারে।
বংশীকুন্ডা এলাকার কৃষক সুলতান, ইমারান ও সবুজ মণ্ডলসহ একাধিক কৃষক জানান, তারা নিজেরা মাটি বিক্রি করতে না চাইলেও স্থানীয় বিএনপি’র কিছু নেতারার বল প্রয়োগে বাধ্য হচ্ছেন মাটি বিক্রি করতে।
এ বিষয়ে মধ্যনগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) সঞ্জয় ঘোষ জানান, ফসলি জমি ও সরকারি খাস জায়গা থেকে প্রয়োজন সাপেক্ষে লিখিত আবেদনের মাধ্যমে মাটি কাটার অনুমোদন দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি অসুস্থ থাকায় অফিসে উপস্থিত নেই। অফিসে যোগ দিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


