হিমেল হান্নান, শাবি:
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) হলগুলোর খাবারের মান ও দামের মধ্যে অসঙ্গতির অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। নিম্নমানের খাবার, দামের তুলনায় অপ্রতুল মাছ-মাংস, ডাইনিং পরিচালনাকারীদের অধিক মুনাফার প্রবণতা ও প্রশাসনের নিয়মিত তদারকির অভাবে দিন দিন হলের খাবারের প্রতি তাদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে বলে জানান তাঁরা।
আবাসিক হলের অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ডাইনিং-ক্যান্টিনে খাবারের জন্য নিম্নমানের চাল, মাছ-মাংসের পরিমাণ কম হলেও দাম বেশি, হলে বিড়ালের উৎপাত, থালাবাসন অপরিষ্কার, খাবারে চুলসহ পোকামাকড় পাওয়া যাচ্ছে। দুপুর ও রাতের মেন্যু প্রায় একই রকম থাকে। খাবারের কোনো ধরণের বৈচিত্র নেই।
বিজয় ২৪ হলের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের সমস্ত শিক্ষার্থী মোটামুটিভাবে এই হলে প্রতিদিন খাবার খেয়ে থাকেন। দিনে তিনবেলা খেতে প্রায় ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা লাগে, যা সবার জন্য বহন করা সম্ভব নয়। অনেক সময় দেখা যায়, ডিম ও সামান্য সবজি দিয়ে ৪০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এটা কমিয়ে ৩০ টাকা হওয়া উচিত। আর ডাল কোনো পর্যায়েই পরে না।’
নাজমুল আরও বলেন, ‘শাহপরাণ হল, সৈয়দ মুজতবা আলী হলের মাছ ৪০ টাকা , সেখানে বিজয় ২৪ হলে ৫০ টাকা। এছাড়া শাহপরাণ হলের মুরগীর রোষ্ট ৬০ টাকা, বিজয় ২৪ হলে সেই রোষ্ট ৬৫ থেকে ৭০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এই দাম গুলো সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা উচিত বলে আমি মনে করি। আমাদের খাবারের পিছনে যে মূল্য পরিশোধ করতে হয়, তা বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।’ এতো টাকা দিয়ে খাবার বিক্রি করা অধিক মুনাফা লাভের উদ্দেশ্য বলে দাবি করেন তিনি।
সৈয়দ মুজতবা আলী হলের ডাইনিংয়ের পরিবেশ সম্পর্কে সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী সাজেদুর রহমান বলেন, ‘আমি ডাইনিংয়ের খাবারে তেলাপোকা পেয়েছি। ঘটনাটি ডাইনিংকর্মচারীকে জানাই। তারা তেলাপোকা উড়ে আসার অজুহাত দেখান। এছাড়া মাঝে মাঝে খাবারে চুল ও মাছি পাওয়া যায় । খাবারের স্বাদ অন্য হলের তুলনায় খারাপ। খাবারের প্লেট ভালোভাবে পরিষ্কার করা হয় না। ডাইনিং এ বিড়াল ঘুরে বেড়ায় সব সময় । মাঝে মাঝে প্রাধ্যক্ষ তদারকির সময় খাবারের মান ভালো রাখা হলেও ধীরে ধীরে মান খারাপ হয়ে যায় বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, আবাসিক ছাত্রী হলের ডাইনিং ও ক্যান্টিনে খাবারের চিত্র প্রায় একই রকম। ফাতিমা তুজ জাহরা হলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, দুপুর ও রাতে খুবই অল্প পরিমাণ খাবার রান্না করা হয়, যা তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যায়। অনেকে খাবার খেতে পারেনা। খাবারে মাঝে মাঝে প্রচুর পরিমাণে লবন ব্যবহার করে। ফলে খাবার খাওয়া কষ্ট হয়ে যায়। ১০ টাকার নিচে কোনো শাক-সবজি পাওয়া যায় না।’ এছাড়া পরিমানের তুলনায় দাম অনেক বেশি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আবাসিক হলের খাবারের বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শাহপরাণ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইফতেখার আহমেদ বলেন, ‘আমরা নিয়মিত খাওয়ার পর্যবেক্ষণ করছি। খাবারে ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়েছে তা স্বীকার করে তিনি বলেন, আমরা ক্যান্টিন ও ডাইনিং পরিচালনা কারীদের সাথে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করতেছি। তারা যাতে খাবারের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখে এবং আইটেম বৃদ্ধি করে। তবে হঠাৎ কোনো দিন কিছু পাওয়া গেলে শিক্ষার্থীরা তা সামগ্রিক চিত্র হিসাবে ধরে নেন। মাছ মাংসের সাইজ বৃদ্ধি করতে গেলে দাম কিছুটা বাড়ানো প্রয়োজন হবে যা শিক্ষার্থীদের জন্য কষ্টকর হয়ে যায়।’


