Homeবিশ্বফিলিস্তিনকে আজ রাষ্ট্র হিসেবে...

ফিলিস্তিনকে আজ রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য

আধুনিক ডেস্ক ::

ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমার। রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় বিকেলে এক বিবৃতির মাধ্যমে এই ঘোষণা দিতে পারেন তিনি। এর আগে, জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার বলেছিলেন, ইসরায়েল গাজায় যুদ্ধবিরতিতে রাজী না হলে এবং দ্বি – রাষ্ট্রীয়(টু-স্টেট) সমাধানের লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদী টেকসই শান্তি চুক্তিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ না হলে সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্য তাদের অবস্থান পরিবর্তন করবে। ওই ঘোষণার পর এখন এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। এই পদক্ষেপ ব্রিটিশ পররাষ্ট্রনীতিতে একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত করে, যখন কি না সরকারগুলো বলছিল, শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এবং সর্বোচ্চ প্রভাবের সময়ে স্বীকৃতি আসা উচিত।

যুক্তরাজ্যের নেওয়া এই পদক্ষেপ ইসরায়েলি সরকার, জিম্মিদের পরিবার এবং কিছু রক্ষণশীলদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এর আগে বলেছিলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ ‘সন্ত্রাসকে পুরস্কৃত’ করে। তবে, যুক্তরাজ্যের মন্ত্রীরা যুক্তি দেন এই বলে যে, দীর্ঘমেয়াদী শান্তি চুক্তির আশা বাঁচিয়ে রাখার জন্য এই কাজ করার একটা নৈতিক দায়িত্ব ছিল।

সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য অবনতি হয়েছে। তারা গাজার দুর্ভিক্ষ ও সহিংসতার চিত্র তুলে ধরেছেন যেটি প্রধানমন্ত্রী আগেই ‘অসহনীয়’ বলে উল্লেখ করেছেন। গাজা শহরে ইসরায়েলের সর্বশেষ স্থল- অভিযানে লাখ লাখ মানুষকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। এই অভিযানকে জাতিসংঘের একজন কর্মকর্তা ‘বিপর্যয়কর’ বলে বর্ণনা করেছেন।

সপ্তাহের শুরুতে, জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশন এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, গাজায় ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালিয়েছে। তবে ইসরায়েল জাতিংঘের বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে, এটিকে ‘বিকৃত ও মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করেছে।

যুক্তরাজ্যের মন্ত্রীরা অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের অব্যাহত সম্প্রসারণকে তুলে ধরেন। যেটি আন্তর্জাতিক আইনানুযায়ী অবৈধ কারণ ফিলিস্তিনের রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর বা ‘কি ফ্যাক্টর’।

জুলাই মাসে যখন স্বীকৃতির কথা ঘোষণা করা হয়েছিল তখন যুক্তরাজ্যের বিচারমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বিতর্কিত ‘ই-১’ সবতি স্থাপন প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেছেন। সেসময় সমালোচকরা সতর্ক করে বলেছেন, এটি একটি কার্যকর ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের আশার অবসান ঘটাবে। তিনি বলেন, পশ্চিম তীরে আমরা যে ব্যাপক সম্প্রসারণ দেখছি, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা দেখছি এবং ই-১ উন্নয়ন গড়ে তোলার যে উদ্দেশ্য এবং ইঙ্গিত আমরা দেখছি তারই ফলস্বরূপ একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির পরিণতি।

এ মাসের শুরুতে স্যার স্টার কিয়ারমারের সাথে দেখা করার সময় ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস যুক্তরাজ্যের স্বীকৃতির প্রতিশ্রুতির জন্য তাকে স্বাগত জানিয়েছেন। ডাউনিং স্ট্রিটে এই দুই নেতাই একমত হয়েছেন যে, ফিলিস্তিনের ভবিষ্যত শাসন ব্যবস্থায় হামাসের কোনো ভূমিকা থাকবে না।

কনজারভেটিভ নেত্রী কেমি বেডেনক বলেছেন, তিনি মধ্যপ্রাচ্যে একটি দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধান দেখতে চান। কিন্তু সপ্তাহের শেষে টেলিগ্রাফে এক লেখায় তিনি বলেন, এটা অবশ্যম্ভাবী। তবে এ সময়ে জিম্মিদের মুক্ত করা ছাড়াই ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলে তা হবে সন্ত্রাসবাদের জন্য পুরস্কারস্বরূপ।

এদিকে, হামাস যাদের জিম্মি করেছে, তাদের পরিবারের সদস্যরা যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীকে শনিবার এক খোলা চিঠি দিয়েছেন। তাতে তারা অনুরোধ করেছেন, বাকি থাকা ৪৮ জনের মধ্যে যে ২০ জন এখনও জীবিত বলে মনে করা হচ্ছে, তাদের ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত এই পদক্ষেপ না নেওয়া হোক। তারা খোলা চিঠিতে লিখেছেন, আসন্ন স্বীকৃতির ঘোষণায় “আমাদের প্রিয়জনদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য নাটকীয়ভাবে জটিল প্রচেষ্টা করা হয়েছিল। হামাস ইতোমধ্যেই যুক্তরাজ্যের সিদ্ধান্তকে বিজয় হিসেবে উদযাপন করেছে এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে সরে এসেছে।

সরকারের সূত্র জানিয়েছে, সামনের সপ্তাহগুলোতে মিনিস্টাররা হামাসের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরবর্তী পদক্ষেপগুলি নির্ধারণ করবেন। এই সপ্তাহে যুক্তরাজ্যে রাষ্ট্রীয় সফরের সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছিলেন, তিনি স্বীকৃতির সাথে একমত নন।

স্যার কিয়ের স্টারমার এই সপ্তাহে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকের জন্য ইসরায়েলকে “গাজার ভয়াবহ পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে, যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে এবং দীর্ঘমেয়াদী, টেকসই শান্তির প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে, দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের সম্ভাবনা পুনরুজ্জীবিত করতে ” একটি সময়সীমা নির্ধারণ করেছিলেন।

জুলাই মাসে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, “আমি সবসময় বলেছি, আমরা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে একটি সঠিক শান্তি প্রক্রিয়ার অবদান হিসেবে স্বীকৃতি দেব, যখন দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের সর্বোচ্চ প্রভাব থাকবে। এই সমাধানটি এখন হুমকির মুখে, এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার সময়।

পর্তুগাল, ফ্রান্স, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়াসহ আরো বেশ কয়েকটি দেশ এখন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলেছে। এদিকে, গতবছরই স্পেন, আয়ারল্যান্ড এবং নরওয়ে এই পদক্ষেপ নিয়েছিল। জাতিসংঘের ১৯৩ টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। কিন্তু দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনো সীমানা নেই, কোনো রাজধানী নেই এবং কোনো সেনাবাহিনী নেই যা এই স্বীকৃতিকে মূলত প্রতীকী করে তোলে।

দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধান বলতে পশ্চিম তীর এবং গাজা স্ট্রিপে একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনকে বুঝায় যেটির রাজধানী হবে পূর্ব জেরুজালেম। ইসরায়েল বর্তমানে পশ্চিম তীর এবং গাজা উভয়ই দখল করে আছে যেটির অর্থ ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের তাদের ভুমি এবং জনগণের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই।

লেবার পার্টির ভেতরে অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি সমর্থন করে আসছেন। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপর চাপ বাড়ছে বিশেষ করে তার দলের বামপন্থী এমপিদের কাছ থেকে। জুলাই মাসে তার ভাষণের কিছু আগে, সরকারকে অবিলম্বে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে অর্ধেকেরও বেশি লেবার এমপি একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। তবে সমালোচকরা প্রশ্ন তুলেছেন, সরকার যখন স্বীকৃতির পথ নির্ধারণ করেছিল, তখন কেন হামাসের ওপর নয় বরং ইসরায়েলের ওপর শর্ত আরোপ করেছিল।

দ্য চিফ রাব্বি, স্যার এফ্রাইম মিরভিস সরকারকে এই সিদ্ধান্ত স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই অভিপ্রেত স্বীকৃতি কার্যকর বা গণতান্ত্রিক ফিলিস্তিন সরকারের ওপর নির্ভরশীল নয়, এমনকি শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে মৌলিক প্রতিশ্রুতির ওপরও নির্ভরশীল নয়। আশ্চর্যজনক হলো এটি জিম্মি থাকা ৪৮ জনের মুক্তির ওপরও শর্তাধীন নয়।

হামাসের জিম্মিদের মুক্তি এবং যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার দাবিতেও কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে সরকারি সূত্রগুলো জোর দিয়ে জানিয়েছে। কিন্তু পররাষ্ট্র দফতরের কর্মকর্তা যুক্তি দিয়েছিলেন, রাষ্ট্রত্ব বা স্টেটহুড ফিলিস্তিনের জনগণের অধিকার এবং হামাসের ওপর নির্ভর করা যাবে না। যেটিকে সরকার একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে দেখে।

বৃহস্পতিবার চেকার্সে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আতিথেয়তার সময় স্যার কিয়ের স্টারমার আবারও জানান, হামাস ভবিষ্যতের কোনও ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রে “কোনও ভূমিকা” রাখতে পারবে না।

২০২৩ সালের সাতই অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের নেতৃত্বে হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজা অভিযান শুরু করে। যাতে প্রায় বারোশ জন নিহত এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়েছিল। গাজায় হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তখন থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ৬৪ হাজার ৯৬৪ জন নিহত হয়েছেন।

Share Post Share

আরও পড়ুন

শাবিপ্রবির ছাত্রীকে মুঠোফোনে হেনস্তা, অভিযুক্তকে পুলিশে সোপর্দ

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি: ‎সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে...

কমলগঞ্জে ফের কালবৈশাখি ঝড়ে বাড়িঘর ও বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ

কমলগঞ্জ প্রতিনিধিঃ কমলগঞ্জে সোমবার দিবাগত রাতে ফের কালবৈশাখি ঝড়ে বাড়িঘর ও বিদ্যুৎ...

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নিমজ্জিত হচ্ছে বোরোধান, কৃষকরা হতাশ

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি: গত দু’দিনের টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে নিমজ্জিত হচ্ছে কমলগঞ্জ...

কমলগঞ্জে কালবৈশাখী ঝড়ে অর্ধশতাধিক ঘর বিধ্বস্ত, লন্ডভন্ড বিদ্যুৎ ব্যবস্থা

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি: কমলগঞ্জে কালবৈশাখী ঝড়ে ২২ বর্গকিলোমিটারে অর্ধশতাধিক ঘর আংশিক ও দু’টি...

পড়ুন

শাবিপ্রবির ছাত্রীকে মুঠোফোনে হেনস্তা, অভিযুক্তকে পুলিশে সোপর্দ

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি: ‎সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে মুঠোফোনে কল দিয়ে হুমকি দেওয়া ও তার মোবাইল নম্বর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে প্রিন্টিং ও ফটোকপির দোকানের এক কর্মচারীকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। অভিযুক্ত তরুণের নাম আশরাফুল ইসলাম (২৫)। তার গ্রামের বাড়ি জকিগঞ্জ। ‎‎ মঙ্গলবার...

কমলগঞ্জে ফের কালবৈশাখি ঝড়ে বাড়িঘর ও বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ

কমলগঞ্জ প্রতিনিধিঃ কমলগঞ্জে সোমবার দিবাগত রাতে ফের কালবৈশাখি ঝড়ে বাড়িঘর ও বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। ঝড়ে গাছগাছালি ভেঙ্গে পড়ে ভানুগাছ-শ্রীমঙ্গল সড়কপথ ও সিলেট-আখাউড়া রেলপথে ট্রেন চলাচল সাময়িক বন্ধ হয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় মুন্সিবাজারে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে অন্ধকারের মধ্যে দুর্ভোগ পোহাতে হয় এসএসসি পরীক্ষার্থীদের। দু’দিনের...

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নিমজ্জিত হচ্ছে বোরোধান, কৃষকরা হতাশ

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি: গত দু’দিনের টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে নিমজ্জিত হচ্ছে কমলগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বোরো ধান ও সবজি ক্ষেত। কওলার হাওরের পাশাপাশি নিম্নাঞ্চল এলাকায় ফসল ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। ঝড় ও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সম্পূর্ণ এলাকার বোরো ধান ও শাকসবজি বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা...

কমলগঞ্জে কালবৈশাখী ঝড়ে অর্ধশতাধিক ঘর বিধ্বস্ত, লন্ডভন্ড বিদ্যুৎ ব্যবস্থা

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি: কমলগঞ্জে কালবৈশাখী ঝড়ে ২২ বর্গকিলোমিটারে অর্ধশতাধিক ঘর আংশিক ও দু’টি কালভার্ট বিধ্বস্ত এবং গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা লন্ডভন্ড হয়েছে। বৃহদ গাছ ভেঙ্গে পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ১১ কেভি লাইনসহ ৩টি মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিভিন্ন এলাকায় টানা ১৫ ঘন্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। চরম দুর্ভোগে পড়েন...

অতিবৃষ্টির শঙ্কায় শান্তিগঞ্জের হাওরে বোরো ধান কাটায় অনিশ্চয়তা

কুহিনূর রহমান নাহিদ, শান্তিগঞ্জ: অতিবৃষ্টির শঙ্কায় সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে শ্রমিক সংকটের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বৈরী আবহাওয়া। টানা বৃষ্টিপাত ও রোদ না থাকায় ধান কাটা ও শুকানো- দুই প্রক্রিয়াই মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শান্তিগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা...

বন্যার আশঙ্কায় আধাপাকা ধান কাটতে মাঠে কৃষক:  আধুনিক যন্ত্র ও শ্রমিক সংকটে বিপাকে

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি: আগাম বন্যার আশঙ্কায় সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন হাওর ও নিচু এলাকার কৃষকরা আধাপাকা ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন। এখনও পুরোপুরি পরিপক্ষ না হলেও সম্ভাব্য পানির চাপ থেকে ফসল রক্ষায় ঝুঁকি নিয়েই মাঠে নেমেছেন তারা। এতে একদিকে উৎপাদন কমে যাওয়ার শঙ্কা, অন্যদিকে শ্রমিক ও আধুনিক কৃষিযন্ত্রের সংকটে চরম...

দোয়ারাবাজারে তেল, শ্রমিক সংকট ও বৈরি আবহাওয়ায় ধান ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কা

মোঃ মাসুদ রানা সোহাগ, দোয়ারাবাজার: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও তেল সংকট, শ্রমিক সংকট ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ধান ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকরা। উপজেলার হাওরাঞ্চলে ধান পাকার সঙ্গে সঙ্গে কৃষক কৃষাণীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। কোথাও কোথাও ধান কাটার ধুম পড়ায় খুশির...

কমলগঞ্জে হুমকির মুখে পরিবেশ, প্রতিবেশ; প্রশাসন নির্বিকার

টিলা, পাহাড়ি ছড়া কেটে ও ব্রিজের নিচ থেকে অবৈধভাবে মাটি বালি উত্তোলন নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, কমলগঞ্জ: বনাঞ্চল ও চা বাগান অধ্যূষিত কমলগঞ্জ উপজেলায় প্রাকৃতিক টিলাভূমি ও সিলিকা বালু সমৃদ্ধ পাহাড়ি ছড়া কেটে নিশ্চিহ্ন করা হচ্ছে। প্রকাশ্য দিবালোকে ব্রিজের নিচ থেকেও পলিমাটি কেটে ট্রাকযোগে স্থানান্তর করা হচ্ছে। এতে মারাত্মক হুমকির...

কৃষকরা পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছেন, কিছু মানুষ নেগেটিভ প্রোপাগাণ্ডা ছড়াচ্ছে : এমপি কয়ছর আহমদ

শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি: 'সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ বলেছেন, সরকার কৃষকদের তেল পাওয়ার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং দেওয়া হচ্ছে। কিছু কিছু মানুষ নেগেটিভ প্রোপাগাণ্ডা ছড়াচ্ছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সবাই তেল পাচ্ছেন। এবছর শুরু থেকেই কৃষকরা একটা আতংকের মধ্যে ছিলেন। আলহামদুলিল্লাহ এখন সবাই আতংক মুক্ত আছেন। স্বল্প...

ঢাবির সাংবাদিকদের উপর ছাত্রদলের হামলার ঘটনায় শাবি প্রেসক্লাবের মানববন্ধন

‎‎শাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ‎‎ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল কর্তৃক সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন করেছে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব। একইসাথে এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত বিচারের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।‎‎শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুর দেড়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন সংগঠনটির নেতারা।‎‎শাবি প্রেসক্লাবের...

কৃষক কার্ড-ফ্যামিলি কার্ড দিতে দিতেই বিএনপির তেল ফুরিয়ে গেছে : নাহিদ ইসলাম

বিএনপি কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে জনগণের মন ভোলানোর চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম। https://www.youtube.com/embed/68TEY9Pjnc4 তিনি বলেছেন, এ কার্ড দিতে গিয়ে বিএনপির তেল ফুরিয়ে গেছে, জ্বালানি ফুরিয়ে গেছে। অথচ মন্ত্রীরা সংসদে বলছেন, জ্বালানির সংকট নেই। তারা...

অপরিকল্পিত বাঁধে বাড়ছে ঝুঁকি, রাবার ড্যামের দাবি

শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ ধান কাটার মৌসুমেও সুনামগঞ্জের দেখার হাওরে ফসল ঘরে তোলার বদলে পানি ঠেকাতে লড়াই করছেন কৃষকরা। গুরুত্বপূর্ণ উথারিয়া বাঁধ দিয়ে হাওরে পানি প্রবেশ ঠেকাতে দিনরাত কাজ করছেন তারা। সাম্প্রতিক বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নতুন করে ফসলহানির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চারটি উপজেলাজুড়ে বিস্তৃত ৮ হাজার ৯১০ হেক্টরের দেখার হাওরে...