আধুনিক ডেস্ক ::
সিলেটে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন -র্যাব-৯ এর হেফাজতে থাকা এক আসামি আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে র্যাব। তার গায়ে জড়ানোর জন্য দেওয়া কম্বল ভেন্টিলেটরের সঙ্গে গলায় পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে জানান র্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া ) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ। রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। তানভীর চৌধুরী নামের ওই যুবককে স্ত্রী হত্যার অভিযোগে সিলেটের জৈন্তাপুর থেকে শনিবার রাতে গ্রেপ্তার করেছিলো র্যাব।
কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ এ ব্যাপারে বলেন, র্যাবের হেফাজতে থাকা নওগাঁ জেলার হত্যা মামলার আসামি তানভীর চৌধুরীকে শনিবার জৈন্তাপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তিনি আত্মহত্যা করেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তার গায়ে জড়ানোর জন্য দেওয়া কম্বল ভেন্টিলেটরের সাথে পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, রবিবার নিহতের স্বজন, পুলিশ, চিকিৎসক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ঝুলন্ত মরদেহ নামিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ময়নাতদন্ত শেষে লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এই ঘটনায় গোলাপগঞ্জ থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলাসূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) নওগাঁ সদর উপজেলায় কাঠাতলীতে আদালতে যাওয়ার সময় স্ত্রী জুথি খাতুনকে (২২) ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন তানভীর। নিহত জুথি খাতুন (২২) সদর উপজেলার আনন্দনগর মৃধা পাড়ার ঝুন্টু প্রামানিকের মেয়ে। তানভীর গাজীপুরের কাশিমপুর উপজেলার সারদাগঞ্জ এলাকার বাবুল চৌধুরীর ছেলে।
জানা গেছে, প্রেমের সম্পর্ক থেকে গাজীপুরের তানভীরের সঙ্গে প্রায় এক বছর আগে জুথির বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক মাস পর জুথি জানতে পারেন তার স্বামীর আরেকজন স্ত্রী আছেন। এ নিয়ে কলহ শুরু হলে জুথি বাবার বাড়িতে চলে আসেন। পরে আদালতে মামলা করেন তিনি। বৃহস্পতিবার মামলার শুনানি ছিল। সকালে আদালতে যাওয়ার পথে আগে থেকে ওত পেতে থাকা তানভীর জুথিকে ছুরিকাঘাত করেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ জুথির লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদি হয়ে নওগাঁ সদর মডেল থানায় মামলা করেন।


