ফেরদৌস চৌধুরী রুহেল ::
১৯৯৭ সালে ডিসেম্বরের শেষে দিলদার সেলিম (সাবেক সংসদ সদস্য) ভাইয়ের প্যানেল থেকে সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থায় নির্বাচিত হওয়ার পর আমার এবং ইমরান চৌধুরীর (কোষাধ্যক্ষ) পরিচালনাধীন এ্যাপোলো ১২ ক্লাবের ক্রিকেট অনুশীলন এবং আমার ইস্টবেঙ্গল ফুটবল ক্লাবের অনুশীলন লাক্কাতুরা মাঠে চালিয়ে যাই। পাশাপাশি এই মাঠে রংধনু ক্রীড়াচক্র চৌকিদেখি একছত্র আধিপত্য বিস্তার করে। ফুটবল, ভলিবল, টেপ টেনিস ক্রিকেট টুর্নামেন্টের মধ্য দিয়ে ক্লাবটি এই বৃহত্তর এলাকার খেলোয়ারদের মাঠে অনুশীলনের মাধ্যমে উজ্জীবিত রাখে। অপরদিকে ইলাশকান্দি উদয়ন তরুণ সংঘও পালাক্রমে এই মাঠ ব্যবহার করে। পীরমহল্লা প্রভাতী সংঘের তখন অনুশীলন মাঠ ছিল উত্তর পীরমহল্লার (বর্তমানে কেমব্রিজ গ্রামার স্কুল)। লাক্কাতুরা মাঠে তখন বিভিন্ন ব্যক্তির উদ্যোগে ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং টেপ টেনিস টুর্নামেন্ট চলতে থাকে। এর মধ্যে টেপ টেনিস টুর্নামেন্টেরই আধিক্য ছিলো।
আমরা যারা লাক্কাতুরা মাঠটি ব্যবহার করতাম তাদের সকলেরই লক্ষ্য ছিলো কী করে মাঠটি বড় করা যায়। আগেই বলেছি, কী করে আমরা মাঠ বড় করার কৌশল নিয়েছিলাম। সেই পদ্ধতি চলতে থাকলো এবং আমরা অনেকটা সফল হয়েছিলাম। তখনকার সময়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থা এবং বিভাগীয় ক্রিড়া সংস্থার মধ্যে একটি সেতুবন্ধন ছিল। আমরা সব সিদ্ধান্ত নিতাম বিভাগ এবং জেলার কর্মকর্তারা এক হয়ে। ১৯৯৬ সালের শেষ দিকে বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মাহবুব চৌধুরী এবং কোষাধ্যক্ষ ছিলেন মো. আরিফ। এই কমিটিতে তিতন ভাইসহ আরও অনেকে ছিলেন। সম্ভবত ২০০০ সালের শেষ সময়ে দিলদার সেলিম ভাই ও মাহবুব চৌধুরী ভাইয়ের উদ্যোগে জেলা এবং বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কার্যকরী কমিটির যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় বিভাগীয় কমিশনার হাবিবুর রহমান সভাপতিত্ব করেন এবং প্রধান অতিথি হয়ে আসেন তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদ। এই বৈঠক আয়োজনের নেপথ্যে ছিলেন আবাহনী ক্রীড়া চক্রের সভাপতি মরহুম ইফতেখার হোসেন শামীম।
তখন সিলেটে একমাত্র স্টেডিয়াম ছিলো জেলা স্টেডিয়াম। যেখানে সব ধরনের খেলা পরিচালনা করা সম্ভব হত না। বিষয়টি জানিয়ে আমরা মন্ত্রীর কাছে আমরা বিভাগীয় স্টেডিয়ামের মাঠের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছিলাম। তিনি আশ্বাসও দিয়েছিলেন। ওই সভাতেই তিনি বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরবর্তীতে তা আর আলোর মুখ দেখেনি, ওই আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যায়। (চলবে)
