দোয়ারাবাজার প্রতিনিধিঃ
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার সীমান্তে অবৈধ পথে আসা ভারতীয় মহিষ আটক অভিযান পরিচালনাকালে বিজিবি’র উপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আটককৃত আসামী আরমান আলী (২৮)কে’ এক’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
সোমবার (১৮ আগষ্ট) সুনামগঞ্জের আমল গ্রহণকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত শেফায়েত উল্লাহ এই আদেশ মঞ্জুর করেন।
আসামী আরমান আলী উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের কুদ্দুস মিয়া’র পুত্র।
এর আগে গত, ৬ আগষ্ট (বুধবার) বিকাল সাড়ে ৫ টায় সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি), লাফার্জ বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকা সীমান্ত পিলার (১২৪০) হতে বাংলাদেশের এক কিলোমিটার অভ্যান্তরে উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নে তেরাপুর গ্রামে আব্দুল আহাদের বাড়িতে ভারত থেকে অবৈধভাবে চোরাই পথে আসা ভারতীয় মহিষ আটক অভিযানে বিজিবির উপর হামলা করে চোরাকারবারি চক্রের সদস্যরা
পরে বুধবার (৭ আগষ্ট) লাফার্জ বিওপি ক্যাম্পের হাবিলদার রহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে দোয়ারাবাজার থানায় ১০ জনকে এজহারনামীয় এবং ৪০-৫০ জনকে অঙ্গাত নামা আসামী করে মামলা দায়ের করেন।
এতে বুধবার সন্ধায় বিজিবি এবং র্যাব ( যৌথবাহিনি) গ্রেফতারি অভিযান পরিচালনা করে শ্রীপুর গ্রামের কুদ্দুস মিয়া’র পুত্র আরমান আলী (২৮)কে তার নিজ বাড়ি হতে গ্রেফতার করে।
মামলায় অভিযুক্ত আসামীরা হলেন, নরসিংপুর ইউনিয়নের ১। শ্রিপুর গ্রামের কুদ্দুস মিয়া’র পুত্র আরমান আলী (২৮).২। নরসিংপুর গ্রামের (বিশঘরিবাড়ি) রেনু মিয়া’র পুত্র মো.অলিল (৩৫). ৩। শ্রিপুর গ্রামের বাঁদশা মিয়া’র পুত্র নানু মিয়া (৩৫).৪। মুক্তার আলী’র পুত্র রানু মিয়া (৩৫).৫। মমশর আলী’র পুত্র ইয়াকুব আলী (৪০).৬। মুক্তার আলী’র পুত্র বাবলু মিয়া (৩৪).৭। মৃত শাহা মিয়া’র পুত্র আরিফুল ইসলাম (৩২).৮। রগারপাড় গ্রামের মৃত আতর আলী’র পুত্র আহাদ মিয়া (৪০).৯। শ্রিপুর গ্রামের মমশর আলী’র পুত্র আব্দুল কুদ্দুস (৫৫).১০। আব্দুর রশিদের পুত্র ইলিয়াস আলী (৩৫).
মামলা সূত্রে জানা যায়,গত ৬ আগষ্ট (বুধবার) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবি’র অধিনস্থ লাফার্জ ক্যাম্পের বিওপি সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নরসিংপুর ইউনিয়নের তেরাপুর গ্রামে ভারত থেকে চোরাই পথে আসা মহিষ আটক করতে যায়।এসময় সেডের নিচে ২৫-৩০ টি ভারতীয় মহিষ বাঁধা দেখতে পায়। বিজিবির উপস্থিতি ঠের পেয়ে এজহারনামীয় ও অঙ্গাত নামা আসামীরা মহিষ গুলো মাঠে ছেড়ে দিলে, মহিষগুলো ছুটাছুটি করতে থাকে। এমতাবস্থায় বিজিবি টহলদল ৫ টি মহিষ তাৎক্ষণিক আটক করে।তখন এজহারনামীয় আসামী এবং আঙ্গাতনামা আসামীরা মহিষগুলে ছিনিয়ে নিতে টহলকারী বিজিবি সদস্যদের উপর প্রানে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করে। এসময় কোন আসামী ভারতীয় কালো মহিষের গলায় রশি ধরে এবং কেউ কেউ মহিষের পিছন দিয়ে ধাক্কা দিয়ে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ার সময় বিজিবি’র ল্যান্স নায়েক আজাদ হোসাইনকে তাদের হাতে থাকা লাঠি দিয়ে প্রানে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করলে মাথাশ থাকা হেলমেট ভেঙে যায় ও এলোপাতাড়ি বারির আঘাতে পিঠের মধ্যে মারাত্মকভাবে আঘাত করে নীলা ফুলা জখম করে একটি মহিষ ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
ধাক্কা দিয়ে জোরপূর্বক মহিষ ছিনিয়ে নেওয়ার সময় বিজিবি সদস্য ল্যান্স নায়েক শাহিন আলমের ডান হাতের কুনুই এর উপর বাঁশ এবং লাঠিসোটা দিয়ে সজোরে কয়েকবার আঘাত করে মহিষ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। বিজিবি সদস্য জাকির হোসেন রানা মহিষ আটক করলে আসামীরা মহিষের পিছন দিক দিয়ে লেজের অংশে ধরে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
এছাড়াও এজাহারভুক্ত আসামীসহ অঙ্গাতনামা ৩০-৪০ জন আসামী বিজিবি সদস্যদের হাত থেকে মহিষ ছিনিয়ে নিতে বিজিবি টহল দলের অন্য সদস্যদের প্রানে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করে। আটককৃত মহিষগুলো ছিনিয়ে নেওয়া ঠেকাতে সরকারী সম্পদ (অস্ত্র ও গোলাবারুদ) জানমাল রক্ষার্থে বিজিবি টহল দল নিরুপায় হয়ে আকাশের দিকে তাক করে ৫ রাউন্ড ফাঁকা ফায়ার করে। এসময় আসমাীগণ ছত্রভঙ্গ হয়ে ঘটনাস্থল হতে ৫ টি মহিষের মধ্যে ৩ টি ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং হুমকি প্রদান করে যে বিজিবি সদস্যদের প্রানে মেরে ফেলবে।
এই ঘটনায় গুরুতর আহত বিজিবি’র ল্যান্স নায়েক আজাদ হোসাইনকে প্রথমে চিকিৎসার জন্য দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন আছে।
এ-ই ঘটনার পরের দিন বিজিবি গ্রেফতারি অভিযান পরিচালনা করে শ্রীপুর গ্রামের কুদ্দুস মিয়া’র পুত্র আরমান আলীকে তার নিজ বাড়ি হতে গ্রেফতার করে।
সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি) অধিনায়ক নাজমুল হক জানান, মামলায় বর্নিত চোরাকারবারিরা অত্যন্ত দাঙ্গাবাজ, চোরাকারবারি, অবৈধ মাদক ব্যবসায়ী এবং সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোকজন হয়। বিভিন্ন সময় অপরাধ প্রতিরোধে ও দমনে পেশাগত দায়িত্ব পালন করায় বর্নিত এজহারনামীয় আসমীগণ তাহাদের সহিত থাকা অঙ্গাতনামা আসামীরা বিজিবি সদস্যদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে সরকারী কর্তব্য পালনে বাঁধা প্রদান করে।


