আধুনিক ডেস্ক:
‘রাষ্টের মেরামত নয় -চাই আমূল পরিবর্তন’ এই স্লোগানে সিলেট ‘ক্বিন ব্রিজ’ এলাকায় জুলাই স্মরণে ‘দ্রোহের সমাবেশ’ আয়োজন করা হয়।

শুক্রবার (১আগষ্ট) বিকেল সাড়ে তিনটায় একটি মিছিল শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ক্বিন ব্রিজের পাদদেশে একটি সমাবেশে মিলিত হয়৷
এসময় গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল সিলেট নগর এর সভাপতি তানজিনা বেগম এর সভাপতিত্ব ও সাধারণ সম্পাদক আয়শা আক্তার এর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল এর কেন্দ্রীয় সভাপতি ছায়েদুল হক নিশান, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুজয় শুভ, সিলেট নগর এর সহসভাপতি মেহেদী হাসান, নগর সাংগঠনিক সম্পাদক আবীর খান প্রমুখ৷ এছাড়াও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বন্ধুপ্রতিম সংগঠন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নগর সভাপতি সুমিত কান্তি পিণাক।বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলা সংসদ এর সাধারণ সম্পাদক মাশরুখ জলিল।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান গত পাঁচ দশকের প্রতিক্রিয়াশীল রাষ্ট্র কাঠামোর ভয়াবহ রূপ জনগণের সামনে উন্মোচিত করেছে । বঞ্চিত মানুষের যুগসঞ্চিত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ছিলো জনগণের অভ্যুত্থান। কিন্তু সহস্র প্রাণের বিনিময়েও কাঙ্ক্ষিত মুক্তি পাওয়া যায়নি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দেশজুড়ে দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজী, নাগরিক অধিকারের ক্রম সংকোচন, শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা, জানমালের নিরাপত্তাহীনতা, মজুরি বঞ্চিত শ্রমিকের গুলিবিদ্ধ দেহ, সরকারের সাম্রাজ্যবাদ তোষণ—প্রতিটি বিষয় সাক্ষ্য দেয় যে, অভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতন ঘটলেও ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পতন হয়নি। জনগণের মৌলিক, মানবিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার আদায় করতে হলে ফ্যাসিবাদী বুর্জোয়া ব্যবস্থার মেরামত নয়, চাই আমূল পরিবর্তন। এই পরিবর্তনের নেতৃত্বে থাকবে এ দেশের বিপুল অংশের শ্রমিক-কৃষক-সর্বহারা জনতা। গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল সমাজ প্রগতির এই সংগ্রামে সর্বাত্মক ভূমিকা রাখতে চায় ।
সমাবেশে বক্তারা জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার, চা শ্রমিকের বকেয়া পরিশোধ, ভূমির অধিকার ও শ্রমিক সন্তানের শিক্ষার অধিকার, স্থায়ী জাতীয় শিক্ষা কমিশন গঠন, সংবিধানে শর্তহীনভাবে শিক্ষাকে মৌলিক অধিকার হিসাবে উল্লেখ করা,হ শাবিপ্রবি-এমসি কলেজসহ সকল ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদ নির্বাচন ও সকল আন্তর্জাতিক চুক্তি জনগণের সামনে প্রকাশ, সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থ রক্ষাকারী সকল অসম প্রকল্প বাতিলের দাবি জানান।
