আধুনিনক ডেস্ক ::
দেশটা যেন স্বৈরাচারমুক্ত হয়, দেশটা যেন ভালোর দিকে যায়’ এমন প্রত্যাশার কথা জানালেন জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রুদ্র সেনের বাবা সুবীর সেন। শনিবার (১৯ জুলাই) সকালে দিনাজপুরের গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে ‘এক শহীদ, এক বৃক্ষ’ কর্মসূচিতে এসে কথাগুলো বলেন তিনি। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স বিভাগের নিহত শিক্ষার্থী রুদ্র সেন ১৮ জুলাই বাবা সুবীর কুমার সেন।
তিনি বলেন, আমার ছেলে গত বছর ১৮ জুলাই শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষে নিহত হয়। আমার একটাই ছেলে। ছেলেকে হারিয়ে আমি একা হয়ে গেছি। দেশটাকে ভালো রাখার জন্যই আমার ছেলে জীবন দিয়েছে। আমার একটাই চাওয়া, দেশটা যেন স্বৈরাচারমুক্ত হয়, দেশটা যেন ভালোর দিকে যায়।’
জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে সকাল সাড়ে নয়টায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম। কর্মসূচির অংশ হিসেবে দিনাজপুরের শহীদ ৮ জনের স্মরণে ৮টি বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি জেলায় মোট ৮ লাখ বৃক্ষরোপণের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে দিনাজপুর বন বিভাগ।
জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারের নির্দেশনায় জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। জেলার ১০৩টি ইউনিয়নের স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা, সড়ক-মাঠের ধারে, নদীর পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করা হচ্ছে। সকালের মধ্যে সব জায়গায় রোপণ সম্পন্ন হবে। এ কর্মসূচি সফল করতে ছাত্র-শিক্ষক, কৃষক, স্বেচ্ছাসেবকসহ নানা শ্রেণি–পেশার মানুষ একযোগে কাজ করছেন।’
২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সারা দেশই ছিল উত্তাল। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স (সিইপি) বিভাগের ২০২১-২২ বর্ষের শিক্ষার্থীরুদ্র সেন সেদিন বিকেলে বেশ কয়েকজন বন্ধুবান্ধব মিলে একসঙ্গে বের হয়েছিলেন। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে অনেক ঝামেলা চলছিল। মারামারি, পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় সুরমা গেট, ইউনিলিভার ও তপোবন গেটের দিকে চলে যায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তপোবনের দিকে সবাই একটা নিরাপদ জায়গায় দাঁড়ান। হঠাৎ খবর আসে, শিক্ষার্থীদের মেসে মেসে নাকি পুলিশ হানা দেবে। ভারী বৃষ্টির কারণে সিলেটের আশপাশের এলাকা তখন ডুবে গিয়েছিল। পুলিশের ভয়ে সবাই তখন কী করবে, ভেবে দিশাহারা। অনেকেই কলাগাছ দিয়ে ভেলা বানিয়ে চলাফেরা করছিলেন। রুদ্ররা কয়েকজনে মিলে ও রকম একটি ভেলায় উঠে পেছন দিক দিয়ে তাদের সিনিয়রের বাসায় যাচ্ছিলেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা ভেলা থেকে পড়ে যায়। তিনজন সাঁতার কেটে উঠতে পারলেও রুদ্র উঠতে পারেননি। রুদ্রকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মারা যান তিনি।
দিনাজপুর সদর উপজেলার বাসিন্দা সুবীর সেন ও শিখা বণিকের সন্তান রুদ্র সেন। ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সিইপি বিভাগে পড়ার সুযোগ পান।


