এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ও জিপিএ ফাইভ দুটোই কমেছে। এ বছর সকল বোর্ডের পাসের হার ৬৮.৪৫ ভাগ। গত বছর যেখানে পাসের হার ছিল ৮৩ দশমিক শূন্য ৩ ভাগ। অর্থাৎ পাসের হার কমেছে প্রায় ১৫ ভাগ। এ বছর মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১,৩৯,০৩২ জন। গত বছর এসংখ্যা ছিলো এক লাখ ৮২ হাজার ১২৯ জন। গত বছরের চেয়ে জিপিএ ফাইভ প্রাপ্তির সংখ্যা কমেছে ৪৩ হাজার ৯৭টি। এ বছর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রী ৭৩ হাজার ৬১৬ জন এবং ছাত্র ৬৫ হাজার ৪১৬ জন।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) দুপুরে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড একযোগে ফল প্রকাশ করেছে।
এবার সর্বোচ্চ পাসের হার রাজশাহী বোর্ডে ৭৭.৬৩ শতাংশ। এরপর রয়েছে যশোর বোর্ডে ৭৩.৬৯ শতাংশ, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৭২.০৭ শতাংশ, সিলেট বিভাগে ৬৮.৫৭ শতাংশ, ঢাকা বোর্ডে ৬৭.৫১ শতাংশ, দিনাজপুর বোর্ডে ৬৭.০৩ শতাংশ, কুমিল্লা বোর্ডে ৬৩.৬০ শতাংশ, ময়মনসিংহ বোর্ডে ৫৮.২২ শতাংশ এবং সবচেয়ে কম পাসের হার বরিশাল বোর্ডে ৫৬.৩৮ শতাংশ। মাদরাসা বোর্ডে পাসের হার ৬৮.০৯ শতাংশ ও কারিগরি বোর্ডে পাসের হার ৭৩.৬৩ শতাংশ।
অপর দিকে জিপিএ ৫ প্রাপ্তির দিক দিয় এগিয়ে আছে ঢাকা বোর্ড: এ বোর্ডে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৩৭ হাজার ৬৮ জন, এরপর রাজশাহী বোর্ড: ২২ হাজার ৩২৭ জনযশোর বোর্ড: ১৫ হাজার ৪১০ জন, দিনাজপুর বোর্ড: ১৫ হাজার ৬২ জন, চট্টগ্রাম বোর্ড: ১১ হাজার ৮৪৩ জন, কুমিল্লা বোর্ড: ৯ হাজার ৯০২ জন, ময়মনসিংহ বোর্ড: ৬ হাজার ৬৭৮ জন, সিলেট বোর্ড: ৩ হাজার ৬১৪ জন,বরিশাল বোর্ড: ৩ হাজার ১১৪ জন । মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড: জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৬৬ জন, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড: জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ৯৪৮ জন শিক্ষার্থী। এবারের পরীক্ষায় পাসের হার এবং জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় কম।
পরীক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট এবং সংশ্লিষ্ট বোর্ডের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফল সংগ্রহ করতে পারবে। এ ছাড়া নির্ধারিত শর্টকোড ১৬২২২-তে এসএমএসের মাধ্যমেও ফল পাওয়া যাবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা পত্রিকায় ফলাফল পাওয়া যাবে না। ফল প্রকাশের পর ফল পুনর্নিরীক্ষণের সময়ও জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড। ১১ থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত এ জন্য আবেদন নেওয়া হবে। আবেদন পদ্ধতি শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট এবং টেলিটক বাংলাদেশের দেওয়া বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানা যাবে।
এবারও ফল প্রকাশ ঘিরে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিকতা রাখা হয়নি। তবে সার্বিক বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার সভাকক্ষে মতবিনিময় সভায় কথা বলেন বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. খন্দোকার এহসানুল কবির। এবারের ফলাফল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে ফল প্রকাশিত হয়েছে সেটি প্রকৃত ও সত্য। কোনো ধরনের অতিরিক্ত নম্বর দেওয়ার জন্য কাউকে বলা হয়নি। সামগ্রিকভাবে এবারের ফলে প্রকৃত চিত্র উঠে এসেছে।
তিনি বলেন, ‘আগে কী হয়েছে সেটি আমরা বলব না। তবে, এখন যে তথ্য দিয়েছি সেটিই প্রকৃত। যা হয়েছে সেটি উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে আমাদের কোনো হাত নেই। আমাদের ওপর মহল থেকে কোনো ধরনের চাপ ছিল না। আমাদের বলা হয়েছে, রেজাল্ট হবে সেটিই দিতে হবে। আমরাও পরীক্ষকদের এ অনুরোধ জানিয়েছি। তাদের যথার্থভাবে খাতা মূল্যায়ন করার জন্য বলা হয়েছে।’
গত ১০ এপ্রিল ২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল। এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় নিয়মিত-অনিয়মিত মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৯ লাখ ২৮ হাজার ৯৭০ জন।


