আধুনিক রিপোর্ট :: ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, হবিগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য আবু জাহির সহ ১৫ জন প্রাণ রক্ষায় সিলেটে সেনানিবাসের ভেতরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সে সময়ে শুধু মানবিক দায়বদ্ধতার কারণে আইন বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড থেকে আশ্রয় প্রার্থীদের জীবনরক্ষা করাই মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল বলে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সেনাবাহিনীর এ অবস্থান তুলে ধরে। এতে বলা হয়, পরিস্থিতি উন্নয়ন সাপেক্ষে আশ্রয় গ্রহণকারীদের বেশির ভাগই ১–২ দিনের মধ্যে সেনানিবাস ত্যাগ করেন।
সিলেটে সেনানিবাসে আশ্রয় নেওয়া অন্যরা হলেন- সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য জামাল উদ্দিন ভূঁইয়া, সিলেটের তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনার আবু আহমেদ সিদ্দিক, সিলেট রেঞ্জের তৎকালীন ডিআইজি জাকির হোসাইন খান, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের তৎকালীন অতিরিক্ত কমিশনার জুবায়েদ হোসেন, তৎকালীন উপকমিশনার আজবাহার আলী শেখ, মাহফুজুর রহমান, সিলেটের গোয়াইনঘাটের তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম, একই উপজেলার সহকারী কমিশনার সায়েদুল ইসলাম, গোয়াইনঘাটের সার্কেল এএসপি সাহিদুর রহমান, গোয়াইনঘাট থানার ওসি রফিকুল ইসলাম, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিরিক্ত পরীক্ষক মো. আবুদল আউয়াল, মো. আলাউদ্দিন আহমেদ, সিকিউরিটি অফিসার আবদুর রাকিব।
আইএসপিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জুলাই-আগস্ট ২০২৪ এর ছাত্র–জনতার গণঅভ্যুত্থানে বিগত সরকারের পতনের পর কতিপয় কুচক্রী মহলের তৎপরতায় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হয়। ফলশ্রুতিতে সরকারি দপ্তর ও থানাসমূহে হামলা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর আক্রমণ ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, মব জাস্টিস, চুরি, ডাকাতিসহ বিবিধ বিশৃঙ্খলা দেখা যায়। এ ধরনের সংবেদনশীল ও নাজুক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে দেশের নাগরিকদের মনে নিরাপত্তাহীনতা জন্ম নেয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এমতাবস্থায় ঢাকাসহ দেশের প্রায় সকল সেনানিবাসে প্রাণ রক্ষার্থে কতিপয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার নাগরিকেরা আশ্রয় প্রার্থনা করেন। উদ্ভূত আকস্মিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সেনানিবাসে আশ্রয়প্রার্থীদের পরিচয় যাচাই–বাছাই করার চাইতে তাদের জীবন রক্ষা করা প্রাধান্য পেয়েছিল। এ প্রেক্ষিতে ২৪ জন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ৫ জন বিচারক, ১৯ জন অসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তা, ৫১৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য, বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাসহ বিবিধ ১২ জন ও ৫১ জন পরিবার–পরিজন (স্ত্রী ও শিশু) সহ সর্বমোট ৬২৬ জনকে বিভিন্ন সেনানিবাসে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরিস্থিতি উন্নয়ন সাপেক্ষে আশ্রয় গ্রহণকারীদের বেশির ভাগই ১–২ দিনের মধ্যে সেনানিবাস ত্যাগ করেন। এর মধ্যে ৫ জনকে তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ বা মামলার ভিত্তিতে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।