দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে মানবিকতার এক হৃদয়স্পর্শী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে থানা পুলিশ। দীর্ঘ দেড় বছর ধরে নিখোঁজ থাকা এক প্রতিবন্ধী যুবককে খুঁজে বের করে অবশেষে তার বাবার হাতে তুলে দিয়েছে দোয়ারাবাজার থানা পুলিশ। বহুদিনের অপেক্ষা, উদ্বেগ আর অশ্রুভেজা প্রার্থনার অবসান ঘটিয়ে সন্তানের ফিরে পাওয়ার আনন্দে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বাবা ও পরিবারের সদস্যরা।
জানা যায়, প্রায় দেড় বছর আগে ভোলা জেলার সদর থানার ধনিয়া ইউনিয়নের নবীপুর গ্রামের বাসিন্দা রাজিব (২৫) হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়ে যান। তিনি রইজল মিয়ার ছেলে এবং শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। ছেলেকে খুঁজে পেতে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে ছুটে বেড়ালেও কোথাও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। দিন গড়িয়েছে, মাস কেটেছে—কিন্তু ছেলের কোনো খোঁজ না পেয়ে হতাশা আর দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছিল পরিবারটি।
এদিকে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় একসময় সীমান্ত অতিক্রম করে রাজিব ভারতের শ্রীলঙ্কা এলাকায় চলে যান বলে জানা যায়। সেখানে স্থানীয় ভারতীয় নাগরিকরা তাকে দেখতে পেয়ে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেন এবং তাকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও ভারতীয় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) ও পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে।
প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে রাজিবকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়া হলে দোয়ারাবাজার থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। তবে মানসিক ভারসাম্যহীন থাকায় প্রথমদিকে নিজের পরিচয় স্পষ্টভাবে জানাতে পারেনি সে।হাল ছাড়েনি পুলিশ। দোয়ারাবাজার থানা পুলিশের সদস্যরা ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বিভিন্নভাবে অনুসন্ধান শুরু করেন। টানা তিন থেকে চার দিনের নিরলস প্রচেষ্টার পর অবশেষে রাজিবের প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হন তারা। পরে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে তার বাবা রইজল মিয়ার হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এই মানবিক উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন দোয়ারাবাজার থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) মোহন রায়। তার আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক প্রচেষ্টার ফলেই দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটে একটি পরিবারের।
দীর্ঘ দেড় বছর পর ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরে অশ্রুসজল চোখে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বাবা রইজল মিয়া। তিনি বলেন, “আমার ছেলেকে আবার জীবিত অবস্থায় দেখতে পারবো—এটা কখনো ভাবিনি। দোয়ারাবাজার থানা পুলিশ আমাদের জীবনে নতুন করে আশা ফিরিয়ে দিয়েছে।”এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও প্রশংসা ছড়িয়ে পড়েছে। মানবিক এই উদ্যোগ প্রমাণ করে—দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের পাশে দাঁড়াতেও সদা প্রস্তুত বাংলাদেশ পুলিশ।


