শাবিপ্রবি প্রতিনিধি:
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের(শাবিপ্রবি)শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি-শাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংবাদ সম্মেলন করেছে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সদস্যরা।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) শাবিপ্রবির সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের শিক্ষক মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণা দেন।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা করা ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক সাস্ট চ্যাপ্টারের এক সংবাদ সম্মেলন সর্ম্পকে বলা হয়,শিক্ষকদের একটা অংশের পক্ষ থেকে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করা হয়েছে। ষড়যন্ত্রের তীর বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের দিকে করা হয়েছে। এখন আমরা এই নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করলে আবার অভিযোগ করবে। এই কারণে আমরা জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী শিক্ষকরা নির্বাচনে দায়িত্ব পালন না করার ঘোষণা দিচ্ছি। আমরা অন্যান্য শিক্ষকদেরও দায়িত্ব পালন না করার আহ্বান করছি।
জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. আশরাফ উদ্দীন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমরা এখানে জাতীয়তাবাদী শিক্ষকরা এখানে আছি। শাবিপ্রবির নির্বাচন যেন সুষ্ঠু ও সবার অংশগ্রহণে হয় সেই জন্য চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছি। ৫ আগস্টের পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা হল দখল করা হলো। হলে উঠার জন্য একটা নীতিমালা তৈরি করে আবার তারাই সেই নীতিমালা বাতিল করে দিয়েছে। ইউটিএলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলো নির্বাচন বন্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এখন নির্বাচন বন্ধে তাহলে শিক্ষকদের একটা অংশই ষড়যন্ত্র করছে। আমাদের এই ট্যাগিং দেওয়া হয়েছে। তাহলে আমরা যদি নির্বাচন পরিচালনা করি, তাহলে জাতীয়তাবাদী শিক্ষকদের দোষ দেওয়া হবে।
অধ্যাপক ড. আশরাফ উদ্দীন বলেন, ইলেকশন কমিশন গঠন হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তন হয়েছে। ভিসি মহোদয় এককভাবে তারিখ ঘোষণা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন গঠন হয়েছে। ভিসি মহোদয় ১৫ জনের নির্বাচন কমিশন গঠন করেছে। বিএনপিপন্থী শিক্ষকরা নির্বাচনের বিরুদ্ধে কোন ধরনের কোন বক্তব্য বা বিবৃতি দেই নাই।
তিনি আরও বলেন, গত ৫ তারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটা চিঠি আসে। নির্বাচন স্থগিত করতে অনুরোধ করা হয়। এই চিঠির বিষয়ে আমরা শিক্ষকরা জানিনা। আমরা আশা করছিলাম ভিসি মহোদয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। কিন্তু ভিসি মহোদয় এই বিষয়ে কোন আলোচনা করেন নাই। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের কোন আলোচনা না করে ভিসি ও ট্রেজারার নির্বাচন কমিশনে গিয়েছেন তাদের একক সিদ্ধান্তে। গত ২৮ বছর বিএনপি ও জামায়াতপন্থী শিক্ষকরা একসাথে কাজ করেছি। গত ২৮ তারিখ হঠাৎ করে ইউটিএল সাস্ট চ্যাপ্টার নামে শিক্ষকদের সংগঠন একটা সংবাদ সম্মেলন করেছে। এই সংবাদ সম্মেলনের ভাষা এবং বক্তব্য শিক্ষক সলভ নয় বলে আমরা মনে করি। ছাত্রদের মধ্যে দুইটি গ্রুপ হয়েছে। একটা গ্রুপ নির্বাচনের পক্ষে অপর গ্রুপ নির্বাচনের বিপক্ষে। আন্দোলন করে যেভাবে আন্দোলন করে নির্বাচনের তারিখ আদায় করা সঠিক নয় বলে আমরা মনে করি। মামলার রায় যাইহোক না কেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ রক্ষার্থে এবং সহাবস্থানের জন্য আমরা নিরব থাকতে পারি নাই।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড.আতিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম,অধ্যাপক ড.ইফতেখার আহমেদ, অধ্যাপক ড. সালমা আক্তার প্রমুখ।


