Homeপ্রবাসবাংলাদেশ–চীন–ভিয়েতনামে আইইএলটিএসের প্রশ্নফাঁস, ৮০...

বাংলাদেশ–চীন–ভিয়েতনামে আইইএলটিএসের প্রশ্নফাঁস, ৮০ হাজার শিক্ষার্থীর ভুল ফল

আধুনিক ডেস্ক ::

আন্তর্জাতিক ইংরেজি ভাষার পরীক্ষা (আইইএলটিএস) নম্বরে (মার্কিং) ত্রুটির কারণে প্রায় ৮০ হাজার পরীক্ষার্থী ভুলভাবে পাস নম্বর পেয়েছেন। আইএলটিএসে অকৃতকার্য হওয়া সত্ত্বেও হাজারো অভিবাসী যুক্তরাজ্যের ভিসাও হয়তো পেয়েছেন। ব্রিটিশ কাউন্সিলের পরিচালিত আন্তর্জাতিক ইংরেজি ভাষার এ পরীক্ষায় (আইইএলটিএস) অকৃতকার্য অনেক পরীক্ষার্থীকে পাস করিয়ে দেওয়া এবং ভিসা পাওয়ার তথ্য নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ।

দ্য টেলিগ্রাফের সহযোগী সম্পাদক গর্ডন রায়নার এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেলিগ্রাফ জানতে পেরেছে যে বাধ্যতামূলক ইংরেজি ভাষা পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও হাজারো অভিবাসীকে ভিসা দেওয়া হয়েছে মার্কিং নিয়ে ভুল করার কারণে।
ব্রিটিশ কাউন্সিল পরিচালিত ভাষা পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৮০ হাজার ব্যক্তিকে ভুল ফল দেওয়া হয়েছে, যার অর্থ তাদের অনেককেই অকৃতকার্য হওয়া সত্ত্বেও পাস নম্বর দেওয়া হয়েছে।

চীন, বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামে জালিয়াতির এ প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব দেশে অপরাধীরা ফাঁস হওয়া পরীক্ষার কাগজপত্র অভিবাসীদের কাছে বিক্রি করেছে, যাতে পরীক্ষার্থীরা আগে থেকে উত্তর জানতে পারেন। এর অর্থ হলো শিক্ষার্থী, এনএইচএস কর্মী ও ইংরেজিতে দুর্বল জ্ঞানসম্পন্ন অন্য অভিবাসীদের পড়াশোনা বা কাজের জন্য ভিসা দেওয়া হয়েছে, যার জন্য তাদের পূর্ণ যোগ্যতা নেই।

ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড কলেজ ইউনিয়ন জানায়, বিদেশি শিক্ষার্থীরা বেশি টিউশন ফি দেওয়ায় কিছু বিশ্ববিদ্যালয় তাদের দুর্বল ইংরেজি দক্ষতাকে উপেক্ষা করছে। কিছু প্রভাষক অভিযোগ করেছেন, বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রায় ৭০ শতাংশেরই ইংরেজি জ্ঞানের পর্যাপ্ত দক্ষতা নেই।
বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যে যারা এই পরীক্ষায় পাস না করেই ব্রিটেনে এসেছেন, তাদের যেন দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর ৩৬ লাখ মানুষ ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টেস্টিং সিস্টেম (আইইএলটিএস) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। এই পরীক্ষার যৌথ মালিকানায় রয়েছে ব্রিটিশ কাউন্সিল, কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট ও শিক্ষামূলক সংস্থা আইডিপি।

২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে হাজার হাজার মানুষ পরীক্ষায় ভুল স্কোর বা ফলাফল পেয়েছেন। আইইএলটিএস এর জন্য ‘একটি কারিগরি ত্রুটিকে’ দায়ী করেছে, যা ‘কিছু আইইএলটিএস একাডেমিক এবং জেনারেল ট্রেনিং পরীক্ষার লিসেনিং এবং রিডিং অংশে সামান্য উপাদানের ওপর প্রভাব ফেলেছিল’। সংস্থাটি জানিয়েছে, পরীক্ষার মাত্র প্রায় ১ শতাংশ এতে প্রভাবিত হয়েছিল। তবে এই সংখ্যাও প্রায় ৭৮ হাজার পরীক্ষার্থীর সমান হবে।

আইএলটিএস পরীক্ষা নেওয়া সংস্থা এক বিবৃতিতে বলেছে, সমস্যাটি মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ধরা পড়েছে। এ কারণে ক্ষতিগ্রস্তের শিকার ব্যক্তিদের সঙ্গে গত মাসে যোগাযোগ করা হয়েছে তাঁদের সঠিক পরীক্ষার ফল দিতে এবং আন্তরিক ক্ষমাপ্রার্থনা করা হয়েছে।

এটা বোঝা যাচ্ছে যে কিছু লোকের পরীক্ষার নম্বর তাঁদের যা হওয়া উচিত ছিল তার চেয়ে বেশি ছিল, আবার কিছু লোকের কম ছিল। সমস্যাটি এত দেরিতে শনাক্ত হওয়ায় যাঁদের ভুলভাবে পাস দেখানো হয়েছিল, তাঁদের অনেকেই সেই ফল ব্যবহার করে ভিসা পেতে এবং আইনগতভাবে ব্রিটেনে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছেন।

গত বছর ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড কলেজ ইউনিয়ন জানায়, বিদেশি শিক্ষার্থীরা বেশি টিউশন ফি দেওয়ায় কিছু বিশ্ববিদ্যালয় তাঁদের দুর্বল ইংরেজি দক্ষতাকে উপেক্ষা করছে। একই সঙ্গে কিছু প্রভাষক অভিযোগ করেছেন যে বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রায় ৭০ শতাংশেরই ইংরেজি জ্ঞানের পর্যাপ্ত দক্ষতা নেই।

তদন্তকারী কর্মকর্তারাও সতর্ক করেছেন যে এনএইচএস এবং সমাজসেবামূলক কাজে নিয়োজিত বহু মানুষের ইংরেজি জ্ঞান অপর্যাপ্ত, যা রোগীদের ঝুঁকিতে ফেলছে এবং কিছু ক্ষেত্রে মৃত্যুর কারণও হচ্ছে।

একটি ঘটনায় দেখা গেছে, একজন কেয়ার কর্মী কখনো ইংরেজি পরীক্ষা দেননি। ওই তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, ওই কর্মী ৯৯৯ কল হ্যান্ডলারের সঙ্গে কথা বলার সময় ‘ব্রিদিং’ (শ্বাসপ্রশ্বাস) ও ‘ব্লিডিং’ (রক্তক্ষরণ)—এই দুই শব্দের পার্থক্য বুঝতে পারেননি। একইভাবে ‘অ্যালার্ট’ ও ‘অ্যালাইভ’ শব্দের পার্থক্যও তিনি ধরতে পারেননি। এ ধরনের ভুল–বোঝাবুঝি জরুরি পরিস্থিতিতে মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

ব্রিটিশ ছায়া মন্ত্রী ক্রিস ফিলপ বলেছেন, ‘ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে প্রায় ১০ লাখ মানুষ ভালোভাবে ইংরেজি বলতে পারেন না, কেউ কেউ একেবারেই পারেন না। আমরা আগেই একধরনের সমন্বয় সংকটে ভুগছি, আর এখন জানা যাচ্ছে যে প্রায় ৭৮ হাজার মানুষ ভাষা পরীক্ষার ভুল ফল পাওয়ার পর ভিসা পেয়েছেন। যাঁরা অনুচিতভাবে ভিসা পেয়েছেন, তাঁদের দেশে ফেরত পাঠাতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘মানুষ এখানে এসে যদি কখনো ইংরেজি না শেখেন, তাহলে তাঁরা সমাজে মিশতে পারেন না এবং রাষ্ট্রের ওপর নির্ভর না করে স্বতন্ত্রভাবে জীবন গড়ে তুলতেও পারেন না। এটি একটি ভয়াবহ ব্যর্থতা।’

এ ছাড়া আলাদাভাবে জানানো হয়েছে, কিছু মানুষ অপরাধীদের টাকা দিয়ে আগেই পরীক্ষার ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র কিনে আইইএলটিএস পরীক্ষায় জালিয়াতি করেছেন।

বাংলাদেশের পুলিশ এমন দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা ঘুষের মাধ্যমে পাওয়া আইইএলটিএস পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের অগ্রিম কপির জন্য মানুষের কাছ থেকে এক হাজার থেকে আড়াই হাজার পাউন্ড পর্যন্ত অর্থ নিচ্ছিলেন। ভিয়েতনামে গত ফেব্রুয়ারিতে ব্রিটিশ কাউন্সিল শেষ মুহূর্তে একটি নির্ধারিত পরীক্ষা বাতিল করে একটি ‘ব্যাকআপ’ সংস্করণে পরিবর্তন করেছিল, ফলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের জল্পনার সৃষ্টি হয়। ওই সময়ে ব্রিটিশ কাউন্সিল স্বীকার করেছিল, ফাঁস হওয়া পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিক্রির চেষ্টা বেড়েছে। এ ছাড়া চীনেও জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এদিকে যুক্তরাজ্যের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় এখন বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি স্থগিত করেছে। কারণ, ভিসা ব্যবস্থার দুর্নীতি সম্পর্কে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্বতন্ত্র পার্লামেন্ট সদস্য রুপার্ট লো গত পাঁচ বছরে ইউকে ভিসা ও ইমিগ্রেশন কর্তৃক কতগুলো জাল আইইএলটিএস সার্টিফিকেট চিহ্নিত করা হয়েছে, সেই বিষয়ে হোম অফিসের (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) কাছে জবাব চেয়েছেন। তবে তাঁকে জানানো হয়েছে, এ তথ্য খুঁজে বের করার খরচ ‘অনেক বেশি’ হবে।

ব্রিটিশ কাউন্সিল মূলত তার বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে স্ব-অর্থায়ন করে থাকে। এসব উদ্যোগের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়াও অন্তর্ভুক্ত। তবে এটি পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে করদাতাদের অর্থায়নের অনুদানও পেয়ে থাকে।

কোভিড-১৯–এর সময়ে নেওয়া একটি সরকারি ঋণ বাবদ ব্রিটিশ কাউন্সিলের ১৯৭ মিলিয়ন পাউন্ডের ঋণ রয়েছে, যা পরিশোধ করতে তারা হিমশিম খাচ্ছে। পরীক্ষার ফলাফলের ত্রুটির কারণে যদি কোনো ক্ষতিপূরণের দাবি ওঠে, তবে তা সংস্থাটির আর্থিক অবস্থাকে আরও খারাপ করে তুলবে।


এদিকে স্বরাষ্ট্র দপ্তর ইংরেজি পরীক্ষাব্যবস্থার জন্য ৮১৬ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের একটি নতুন পাঁচ বছরের চুক্তি করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ব্রিটিশ কাউন্সিলকে এ চুক্তির জন্য দরদাম করার সময় অন্য কোম্পানির সঙ্গে প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হবে।

আইইএলটিএসের একজন মুখপাত্র টেলিগ্রাফকে বলেন, আইইএলটিএস সম্প্রতি এমন একটি সমস্যা শনাক্ত করেছে, এ কারণে বিশ্বব্যাপী অল্পসংখ্যক পরীক্ষার্থী ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভুল ফলাফল পেয়েছিলেন। এ সময়ের মধ্যে নেওয়া আইইএলটিএস পরীক্ষাগুলোর ৯৯ শতাংশের বেশি প্রভাব মুক্ত ছিল এবং বর্তমানে চলমান আইইএলটিএস পরীক্ষাগুলোতে আর কোনো সমস্যা নেই।

ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে জানিয়ে ওই মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা তাঁদের সঠিক ফল প্রদান করেছি। আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছি এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করেছি। আমরা সব সংশ্লিষ্ট অংশীদার এবং কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিবছর আমরা যে আইইএলটিএস পরীক্ষা পরিচালনা করি, তার সততা রক্ষা করার জন্য আমাদের কঠোর মান নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি রয়েছে এবং ভবিষ্যতে যাতে এ সমস্যার পুনরাবৃত্তি না হয়, এর জন্য আমরা সব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।’

spot_img

Most Popular

আরও পড়ুন

শাবিপ্রবির ছাত্রীকে মুঠোফোনে হেনস্তা, অভিযুক্তকে পুলিশে সোপর্দ

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি: ‎সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে...

কমলগঞ্জে ফের কালবৈশাখি ঝড়ে বাড়িঘর ও বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ

কমলগঞ্জ প্রতিনিধিঃ কমলগঞ্জে সোমবার দিবাগত রাতে ফের কালবৈশাখি ঝড়ে বাড়িঘর ও বিদ্যুৎ...

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নিমজ্জিত হচ্ছে বোরোধান, কৃষকরা হতাশ

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি: গত দু’দিনের টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে নিমজ্জিত হচ্ছে কমলগঞ্জ...

কমলগঞ্জে কালবৈশাখী ঝড়ে অর্ধশতাধিক ঘর বিধ্বস্ত, লন্ডভন্ড বিদ্যুৎ ব্যবস্থা

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি: কমলগঞ্জে কালবৈশাখী ঝড়ে ২২ বর্গকিলোমিটারে অর্ধশতাধিক ঘর আংশিক ও দু’টি...

spot_img

পড়ুন

শাবিপ্রবির ছাত্রীকে মুঠোফোনে হেনস্তা, অভিযুক্তকে পুলিশে সোপর্দ

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি: ‎সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে মুঠোফোনে কল দিয়ে হুমকি দেওয়া ও তার মোবাইল নম্বর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে প্রিন্টিং ও ফটোকপির দোকানের এক কর্মচারীকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। অভিযুক্ত তরুণের নাম আশরাফুল ইসলাম (২৫)। তার গ্রামের বাড়ি জকিগঞ্জ। ‎‎ মঙ্গলবার...

কমলগঞ্জে ফের কালবৈশাখি ঝড়ে বাড়িঘর ও বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ

কমলগঞ্জ প্রতিনিধিঃ কমলগঞ্জে সোমবার দিবাগত রাতে ফের কালবৈশাখি ঝড়ে বাড়িঘর ও বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। ঝড়ে গাছগাছালি ভেঙ্গে পড়ে ভানুগাছ-শ্রীমঙ্গল সড়কপথ ও সিলেট-আখাউড়া রেলপথে ট্রেন চলাচল সাময়িক বন্ধ হয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় মুন্সিবাজারে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে অন্ধকারের মধ্যে দুর্ভোগ পোহাতে হয় এসএসসি পরীক্ষার্থীদের। দু’দিনের...

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নিমজ্জিত হচ্ছে বোরোধান, কৃষকরা হতাশ

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি: গত দু’দিনের টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে নিমজ্জিত হচ্ছে কমলগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বোরো ধান ও সবজি ক্ষেত। কওলার হাওরের পাশাপাশি নিম্নাঞ্চল এলাকায় ফসল ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। ঝড় ও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সম্পূর্ণ এলাকার বোরো ধান ও শাকসবজি বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা...

কমলগঞ্জে কালবৈশাখী ঝড়ে অর্ধশতাধিক ঘর বিধ্বস্ত, লন্ডভন্ড বিদ্যুৎ ব্যবস্থা

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি: কমলগঞ্জে কালবৈশাখী ঝড়ে ২২ বর্গকিলোমিটারে অর্ধশতাধিক ঘর আংশিক ও দু’টি কালভার্ট বিধ্বস্ত এবং গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা লন্ডভন্ড হয়েছে। বৃহদ গাছ ভেঙ্গে পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ১১ কেভি লাইনসহ ৩টি মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিভিন্ন এলাকায় টানা ১৫ ঘন্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। চরম দুর্ভোগে পড়েন...

অতিবৃষ্টির শঙ্কায় শান্তিগঞ্জের হাওরে বোরো ধান কাটায় অনিশ্চয়তা

কুহিনূর রহমান নাহিদ, শান্তিগঞ্জ: অতিবৃষ্টির শঙ্কায় সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে শ্রমিক সংকটের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বৈরী আবহাওয়া। টানা বৃষ্টিপাত ও রোদ না থাকায় ধান কাটা ও শুকানো- দুই প্রক্রিয়াই মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শান্তিগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা...

বন্যার আশঙ্কায় আধাপাকা ধান কাটতে মাঠে কৃষক:  আধুনিক যন্ত্র ও শ্রমিক সংকটে বিপাকে

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি: আগাম বন্যার আশঙ্কায় সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন হাওর ও নিচু এলাকার কৃষকরা আধাপাকা ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন। এখনও পুরোপুরি পরিপক্ষ না হলেও সম্ভাব্য পানির চাপ থেকে ফসল রক্ষায় ঝুঁকি নিয়েই মাঠে নেমেছেন তারা। এতে একদিকে উৎপাদন কমে যাওয়ার শঙ্কা, অন্যদিকে শ্রমিক ও আধুনিক কৃষিযন্ত্রের সংকটে চরম...

দোয়ারাবাজারে তেল, শ্রমিক সংকট ও বৈরি আবহাওয়ায় ধান ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কা

মোঃ মাসুদ রানা সোহাগ, দোয়ারাবাজার: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও তেল সংকট, শ্রমিক সংকট ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ধান ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকরা। উপজেলার হাওরাঞ্চলে ধান পাকার সঙ্গে সঙ্গে কৃষক কৃষাণীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। কোথাও কোথাও ধান কাটার ধুম পড়ায় খুশির...

কমলগঞ্জে হুমকির মুখে পরিবেশ, প্রতিবেশ; প্রশাসন নির্বিকার

টিলা, পাহাড়ি ছড়া কেটে ও ব্রিজের নিচ থেকে অবৈধভাবে মাটি বালি উত্তোলন নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, কমলগঞ্জ: বনাঞ্চল ও চা বাগান অধ্যূষিত কমলগঞ্জ উপজেলায় প্রাকৃতিক টিলাভূমি ও সিলিকা বালু সমৃদ্ধ পাহাড়ি ছড়া কেটে নিশ্চিহ্ন করা হচ্ছে। প্রকাশ্য দিবালোকে ব্রিজের নিচ থেকেও পলিমাটি কেটে ট্রাকযোগে স্থানান্তর করা হচ্ছে। এতে মারাত্মক হুমকির...

কৃষকরা পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছেন, কিছু মানুষ নেগেটিভ প্রোপাগাণ্ডা ছড়াচ্ছে : এমপি কয়ছর আহমদ

শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি: 'সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ বলেছেন, সরকার কৃষকদের তেল পাওয়ার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং দেওয়া হচ্ছে। কিছু কিছু মানুষ নেগেটিভ প্রোপাগাণ্ডা ছড়াচ্ছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সবাই তেল পাচ্ছেন। এবছর শুরু থেকেই কৃষকরা একটা আতংকের মধ্যে ছিলেন। আলহামদুলিল্লাহ এখন সবাই আতংক মুক্ত আছেন। স্বল্প...

ঢাবির সাংবাদিকদের উপর ছাত্রদলের হামলার ঘটনায় শাবি প্রেসক্লাবের মানববন্ধন

‎‎শাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ‎‎ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল কর্তৃক সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন করেছে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব। একইসাথে এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত বিচারের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।‎‎শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুর দেড়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন সংগঠনটির নেতারা।‎‎শাবি প্রেসক্লাবের...

কৃষক কার্ড-ফ্যামিলি কার্ড দিতে দিতেই বিএনপির তেল ফুরিয়ে গেছে : নাহিদ ইসলাম

বিএনপি কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে জনগণের মন ভোলানোর চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম। https://www.youtube.com/embed/68TEY9Pjnc4 তিনি বলেছেন, এ কার্ড দিতে গিয়ে বিএনপির তেল ফুরিয়ে গেছে, জ্বালানি ফুরিয়ে গেছে। অথচ মন্ত্রীরা সংসদে বলছেন, জ্বালানির সংকট নেই। তারা...

অপরিকল্পিত বাঁধে বাড়ছে ঝুঁকি, রাবার ড্যামের দাবি

শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ ধান কাটার মৌসুমেও সুনামগঞ্জের দেখার হাওরে ফসল ঘরে তোলার বদলে পানি ঠেকাতে লড়াই করছেন কৃষকরা। গুরুত্বপূর্ণ উথারিয়া বাঁধ দিয়ে হাওরে পানি প্রবেশ ঠেকাতে দিনরাত কাজ করছেন তারা। সাম্প্রতিক বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নতুন করে ফসলহানির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চারটি উপজেলাজুড়ে বিস্তৃত ৮ হাজার ৯১০ হেক্টরের দেখার হাওরে...