শাবিপ্রবি প্রতিনিধি:
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি কার্যক্রমের সব অনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু ভর্তি কার্যক্রম শুর হওয়ার প্রায় পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও বেটা ওয়েবসাইটে আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের জমা দেওয়া আবেদন ফি এখনও ফেরত দেওয়ার উদ্যােগ নেওয়া হয়নি।
জানা যায়, বেটায় শিক্ষার্থীরা ভুল করে আবেদন করে ফেলে। পরবর্তী সময় কর্তৃপক্ষ মেসেজে জানায় কিছু দিনের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়া হবে। সেই সাথে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য পুনরায় মেইন ওয়েবসাইটে পেমেন্ট করতে হবে। টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য অনেকে আবেদন করলেও কোনো সাড়া পাননি শিক্ষার্থীরা।
বেটায় ওয়েবসাইটে আবেদন করা তামিম মাহমুদ নামে এক ভুক্তভুগী শিক্ষার্থী বলেন, “ আমি না জেনে বেটাতে আবেদন করে ফেলি। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলে বেটার ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে শাবিপ্রবির ভর্তির মূল ওয়েবসাইট লগইন সম্ভব হচ্ছিল না। তখন আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইমেল ও ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া হটলাইন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া পায়নি। পরে আমি পেরে মূল ওয়েবসাইটে আবেদন করি।”
এ বিষয়ে ভর্তি কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আহমেদ কবির চৌধুরী বলেন, “যারা বেটাতে আবেদন করছে, তারা পরবর্তীতে তাদের তথ্য হেল্পডেস্কে পাঠিয়েছে । যারা তখন রেগুলার ওয়েবসাইটে অ্যাপ্লাই করতে পারছে না। আমরা তাদেরকে আশ্বস্ত করেছিলাম যে, বেটা থেকে তাদেরকে ট্রান্সফার করে নিয়ে আসা হবে এবং সেক্ষেত্রে তাদের আর নতুন করে আবেদন করা ও ফি দেওয়া লাগবে না।”
দুই ধাপে আবেদন করা শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরত দেওয়ার উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি যতটুকু জানি, বেটা থেকে অনেকের টাকা ট্রান্সফার হয়ে চলে আসার কথা। আর কেউ যদি বলে থাকে বেটা থেকে টাকা ফেরত দেওয়া হবে এবং পরবর্তীতে তাকে নতুন করে অ্যাপ্লাই করতে হবে সেটা হয়তো বিশেষ কোনো কারণে হতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “এই প্রক্রিয়া শেষ করতে অ্যাকাউন্টস থেকে দেখতে হবে কত টাকা জমা হয়েছে । অ্যাকাউন্টসে যখন টাকা জমা হয়, সেই টাকাটা ফেরত দিতে অ্যাকাউন্টস ক্লিয়ারেন্স লাগবে। অ্যাকাউন্টসের ক্লিয়ারেন্স না পাওয়া পর্যন্ত এটা হবে না।”
এজন্য হয়তো টাকা ফেরত দিতে ছয় মাস থেকে এক বছরও লাগতে পারে বলে তিনি জানান।
এদিকে টাকা ফেরতের বিষয়টি টেকনিক্যাল কমিটির সাথে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে বলে জানান ভর্তি কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. সেলিম। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে হিসাব সম্পূর্ণ হওয়ার পর এ কাজ শুরু হবে বলেন তিনি।
বেটায় আবেদনকারী কতজন শিক্ষার্থীর টাকা আটকে রয়েছে জানতে চাইলে টেকনিক্যাল উপ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মো. মাসুম বলেন, “শিক্ষার্থীদের তথ্যগুলো ডাটাবেইজ থেকে বের করে ক্রসচেক করা হচ্ছে। ক্রসচেক সম্পন্ন হলে প্রকৃত সংখ্যাটা জানা যাবে।”


