জৈন্তাপুর প্রতিনিধি:
সিলেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থল বন্দর তামাবিলে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী, পোর্ট ও কাস্টমসের অসাধু কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক সুবিধাভোগীদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, ৪ থেকে ৫টি সিএনএফ এজেন্টের সহযোগিতায় তামাবিল পোর্ট, কাস্টমসের কিছু কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও অসাধু ব্যবসায়ীরা একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। তাদের মাধ্যমে কৌশলে কারপাস (কার্গো পাস) জালিয়াতির মাধ্যমে ঘোষণাকৃত পণ্যের অতিরিক্ত পণ্য ক্লিয়ারেন্স করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, ঘোষণার অতিরিক্ত পণ্য ছাড় করাতে পোর্ট কর্তৃপক্ষ প্রতি চালানে ৩৬০ টাকা এবং কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ৮৫০ টাকা করে সুবিধা নিচ্ছে। ফলে সরকারের নির্ধারিত রাজস্ব আদায় না হয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে একটি অসাধু চক্র।
তামাবিল স্থল বন্দরের একাধিক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সাধারণত ৫ টনের ছোট ট্রাকে ১৪ থেকে ১৫ টন পর্যন্ত পণ্য পরিবহন করা হয়। একইভাবে ১২ টনের ট্রাকে ২০ থেকে ২২ টন পণ্য পরিবহন করা হচ্ছে। সিএনএফ এজেন্টদের নির্দিষ্ট কিছু সদস্যের সহযোগিতায় কারপাসে কারচুপি করে এই অতিরিক্ত পণ্য সহজেই ছাড় করা হয়।
তারা আরও বলেন, অতিরিক্ত পণ্য প্রতি চালানে প্রায় ১ হাজার ২১০ টাকা আদায়ের মাধ্যমে পোর্ট ও কাস্টমসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা স্থানীয় রাজনৈতিক সুবিধাভোগী ও অসাধু ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করছেন। এতে করে সরকার বছরে কয়েকশ কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।
ব্যবসায়ীরা আরও জানান, সরকারের উচ্চপর্যায়ের কোনো নিরীক্ষা বা তদন্ত দল সরেজমিনে তদন্ত করলে তামাবিল স্থল বন্দরের এই অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তামাবিল পোর্ট কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ ধরনের কোনো বিষয় আমার জানা নেই। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
অন্যদিকে তামাবিল কাস্টমস সুপার শ্রাবানা বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমাদের জানা নেই। তবে বিষয়টি আমরা যাচাই করে দেখছি।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে তামাবিল স্থল বন্দরে রাজস্ব ফাঁকির এই প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।


