জৈন্তাপুর প্রতিনিধি:
সিলেট–তামাবিল মহাসড়কে জৈন্তাপুর উপজেলায় পৃথক দুইটি সড়ক দুর্ঘটনায় এক পর্যটক ও এক আনসার সদস্যসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জৈন্তাপুর উপজেলার করিচের ব্রিজের দক্ষিণ পাশে কুলাইমুড়া এলাকায় প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে। জাফলংগামী পর্যটকবাহী ‘এশিয়া ট্রান্সপোর্ট’ (ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-২৮৪৭) নামের একটি বাস বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ডিআই পিকআপের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
এ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই বাসে থাকা এক যাত্রী নিহত হন। নিহতের নাম মোহাম্মদ জিহাদ (২০)। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার হাজিগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা এবং নুরুল হক নুরার পুত্র। দুর্ঘটনায় বাসের অন্তত ১৪–১৫ জন যাত্রী গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে অনেককে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দিনের অপর আরেকটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর এলাকার ৭ নম্বর কূপ সংলগ্ন স্থানে। ঢাকা মিরপুর-৭ থেকে ছেড়ে আসা জাফলংগামী একটি সাদা হাইস পর্যটকবাহী মাইক্রোবাস বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে পড়ে।
সংঘর্ষের পর চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইক্রোবাসটি রাস্তার পাশে একটি দোকানের বারান্দায় উঠে যায়। এ সময় সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা আনসার সদস্য মোস্তফা (আইডি নং–৮১২০৭) গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহত মোস্তফা শেরপুর জেলার নকলা থানার গণপতি পোস্ট অফিস এলাকার বারৈকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি হরিপুর গ্যাস ফিল্ডে কর্মরত ছিলেন।
এ দুর্ঘটনায় সিএনজির চালকসহ যাত্রী মিলিয়ে আরও চারজন গুরুতর আহত হন। আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পৃথক দুইটি দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানান, খবর পেয়ে জৈন্তাপুর থানা পুলিশ, তামাবিল হাইওয়ে থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে। নিহতদের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে সিলেট–তামাবিল মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।


