স্পোর্টস ডেস্ক ::
ওয়ানডেতে রানের হিসেবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়টা ১৮৩ রানের। ২০২৩ সালে সিলেটে আয়ারল্যান্ডকে এই ব্যবধানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। মিরপুরে বৃহস্পতিবার সেই রেকর্ড ভাঙার সুযোগ ছিল মিরাজদের। ওয়েস্ট ইন্ডিজ যখন ৯৭ রানে নবম উইকেট খোয়াল, পিছিয়ে ছিল ১৯৯ রানে। বাংলাদেশকে রেকর্ড করতে দেননি আকিল হোসেন। খারি পিয়েরকে নিয়ে ১০ম উইকেটে ২০ রান যোগ করেছেন। জুটিতে পিয়েেরের অবদান শূন্য রান। ১৫ বলে ২৭ রান করে মিরাজের বলে বোল্ড হয়েছেন আকিল।
২০২৪ সালের মার্চে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হোম সিরিজ জয়ের পর টানা চারটি সিরিজে হার প্রশ্ন তুলে দিয়েছিল বাংলাদেশের ওয়ানডে সামর্থ্য নিয়েই। মঙ্গলবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে সুপার ওভারে হার নতুন করে তুলেছিল সে প্রশ্ন। মিরপুরে শেষ ম্যাচটা ১৭৯ রানের বড় ব্যবধানে জিতে যেটি মেহেদী হাসান মিরাজের বাংলাদেশ দল আপাতত দূরেই সরিয়ে দিল। ওয়ানডেতে এটি এখন রানের হিসাবে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বড় জয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয় সর্বোচ্চ ব্যবধানে।
২৫.২ ওভার একসঙ্গে থেকে ১৭৬ রানের ওপেনিং জুটি গড়েছেন সাইফ-সৌম্য, যা শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উদ্বোধনী জুটি। অবশ্য ২০২০ সালে তামিম ইকবাল-লিটন দাসের ২৯২ রানের পর ওয়ানডেতেই বৃহস্পতিবারের ১৭৬ এখন বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উদ্বোধনী জুটি। ২০১৮ সালের জানুয়ারির পর ওয়ানডেতে মিরপুরে বাংলাদেশের প্রথম ৫০ ছোঁয়া উদ্বোধনী জুটিও। আর দলীয় সংগ্রহ ২৯৬ গত সাত বছরের মধ্যে মিরপুরের মাঠে ওয়ানডেতে যা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ।
জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ গুঁড়িয়ে গেছে ১১৭ রানেই। ৩০.১ ওভারের ইনিংসে বল করেছেন শুধু বাংলাদেশের চার স্পিনার, একমাত্র পেসার মোস্তাফিজুর রহমান একটি বলও নয়। বাঁহাতি নাসুম আহমেদ এবং লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন ৩টি করে ও আরেক বাঁহাতি তানভীর ইসলাম এবং অফ স্পিনে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ নিয়েছেন ২টি করে উইকেট। বড় রানের তাড়ায় একটু তাড়াহুড়া ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিংয়ে, যেটির সুযোগ নিয়েছেন বাংলাদেশের বোলার-ফিল্ডাররা।
এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঁহাতি স্পিনার গুড়াকেশ মোতির করা ১৬তম ওভারে ছক্কা মেরে দলের রান তিন অঙ্কে নিয়ে যান ওই ওভারেরই প্রথম বলে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যাওয়া সাইফ। ওভারের শেষ বলে চার মেরে ওয়ানডেতে নিজের প্রথম ফিফটিও পেয়ে যান তিনি। সৌম্য পেয়েছেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৪তম ফিফটি। দুই ওপেনারের সৌজন্যে ২০ ওভারেই বাংলাদেশের রান হয়ে যায় বিনা উইকেটে ১৩৯। সৌম্যর চার আর সাইফের ছক্কায় অ্যালিক অ্যাথানেজের ওই ওভারে আসে ১৩। পুরো ইনিংসে মারা ১৪টি ছক্কা ওয়ানডের এক ইনিংসেই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড ছুঁয়েছে। যেভাবে খেলছিলেন তাতে সৌম্য-সাইফ দুজনই সেঞ্চুরি পেতে পারতেন। সাইফের ৭২ বলে ৮০ রানের ইনিংসে ৬টি করে চার ও ছক্কা। ২৬তম ওভারের দ্বিতীয় বলে রোস্টন চেজকে আরেকটি ছক্কা মারতে গিয়েই লং অনে জাস্টিন গ্রিভসের হাতে ক্যাচ দেন সাইফ। দলের ১৮১ রানে ৪ ছক্কা ও ৭ চারে সৌম্যর ৮৬ বলে ৯১ রানের ইনিংস শেষ হয়েছে হতাশা ছড়িয়ে। ২৯তম ওভারে আকিল হোসেনের ঝুলিয়ে দেওয়া এক বলে মিডউইকেটে আকিম অগাস্টের হাতে ক্যাচ দেন সৌম্য। অল্প সময়ের মধ্যে থিতু দুই ব্যাটসম্যান আউট হয়ে গেলে যা হয়, সাইফ আর সৌম্যর বিদায়ের পর বাংলাদেশের ইনিংসও গতি হারাতে থাকে। পরের ১১ ওভারে তাওহিদ হৃদয় ও নাজমুল হোসেন মিলে তুললেন ৫০ রান। ৪০তম ওভারে হৃদয় আউট হয়ে গেলে শেষ ১০ ওভারে দ্রুত রান তুলতে আগে পাঠানো হয় রিশাদ হোসেন ও নাসুম আহমেদকে। কিন্তু এই ম্যাচে ক্যারিয়ারের প্রথম ৪ উইকেট নেওয়া আকিল ৪৬তম ওভারেই ফেরান মাহিদুল, রিশাদ ও নাসুমকে। তারপরও নাজমুলের ৫৫ বলে ৪৪-এর পর শেষ দিকে নুরুল হাসানের এক ছক্কা এক চারে ৮ বলে অপরাজিত ১৬ আর অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের ১৭ বলে ১৭ রানে তিন শর কাছাকাছি চলে যায় বাংলাদেশ।
