স্পোর্টস ডেস্ক ::
ছক্কা মারায় বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের এগিয়ে যাওয়ার আলোচনা নতুন নয়। বিষয়টা এশিয়া কাপের আগেই ছিল চর্চায়। কারণ, চলতি বছরই তো টি–টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের ছক্কা মারার আগের সব রেকর্ড ভেঙে গেছে। গত বছর ১২২ ছক্কা ছিল এক বছরে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ। এ বছর সেই রেকর্ড অনেক আগেই ছাড়িয়েছে দলটি। এখন পর্যন্ত ২৪ ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাট থেকে এসেছে ১৭১ ছক্কা। এ সংখ্যায় টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ এখন দুই নম্বরে। শীর্ষে পাকিস্তান—২৬ ম্যাচে তাদের ছক্কা ১৯০। তিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ (১৫ ম্যাচে ১৪৮), চারে অস্ট্রেলিয়া (১১ ম্যাচে ১১১) আর পাঁচে ইংল্যান্ড (১২ ম্যাচে ১০০)। এ বছর অন্তত ১০০টি ছক্কা মেরেছে শুধু এই পাঁচ দলই। সাত নম্বরে ভারত, ১২ ম্যাচে তাদের ছক্কা ৯৪।
টি–টোয়েন্টিতে ছক্কা মারায় সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বাংলাদেশের অগ্রগতি স্পষ্ট পরিসংখ্যানে। এ সংস্করণে বাংলাদেশ এত বছর খেললেও এক বছরে ১০০ ছক্কার সীমা ছোঁয়া গেছে মাত্র দুবার—গত বছর আর চলতি বছর। ২০২১ সালে ২৭ ম্যাচে ছিল ৮৩ ছক্কা, সেই রেকর্ড ভেঙেছিল গত বছর।
আইসিসির সব সহযোগী দেশ মিলিয়ে এ বছর টি–টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি ছক্কা মেরেছে অস্ট্রিয়া—৩২ ম্যাচে ২৮০ ছক্কা। আর মাত্র ১০ ছক্কা মারলেই ভেঙে দেবে ভারতের রেকর্ডও। ভারত ২০২২ সালে ২৮৯ ছক্কা মেরে ভেঙেছিল ২০২১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের গড়া ২১৪ ছক্কার রেকর্ড। টেস্ট খেলুড়ে দলগুলোর মধ্যে এ বছর সবচেয়ে কম ছক্কা আয়ারল্যান্ডের—৬ ম্যাচে মাত্র ৩০। তাদের ওপরে আছে দক্ষিণ আফ্রিকা, ১০ ম্যাচে ৬৯ ছক্কা।
টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে এখন আক্রমণাত্মক ক্রিকেটকে আপন করে নেওয়ার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। যেটির একটা ছাপ তো ছক্কার রেকর্ড দেখেও টের পাওয়া যায়। শরীরী ভাষা আর ক্রিকেটারদের কথাবার্তায়ও তা স্পষ্ট। শারজায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে সদ্য শেষ হওয়া তিন ম্যাচ সিরিজটাই তার প্রমাণ। আফগানদের ধবলধোলাইয়ের পথে শেষ ম্যাচে ১০টি ছক্কা মেরেছে বাংলাদেশ। এর আগে দ্বিতীয় ম্যাচেও ১০টি। প্রথম ম্যাচে ছিল ৮টি।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশ কি ছক্কার সংখ্যা ২০০তে নিয়ে যেতে পারবে? এ বছরও সামনে আছে সুযোগ। এ মাসের শেষ দিকে চট্টগ্রামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি–টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। বছরের বাকি সময়ে এটিই একমাত্র টি–টোয়েন্টি সিরিজ। তিন ম্যাচে অন্তত ২৯টি ছক্কা হাঁকাতে পারলেই বাংলাদেশ পৌঁছে যাবে ২০০ ছক্কার মাইলফলকে। কাজটা কঠিন হলেও একেবারে অসম্ভব নয়। ফর্ম আর আত্মবিশ্বাস ঠিক থাকলে টাইগাররা গড়তে পারে আরেক নতুন ইতিহাস।
