ফেরদৌস চৌধুরী রুহেল ::
আহমেদ আরিফ আরেফ তার কাজ চালিয়ে যেতে লাগল। সততার জন্য আরেফকে খুব ভালবাসতেন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। আরেফ অর্থমন্ত্রীর সান্নিধ্যে থাকায় সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার অবকাঠামো উন্নয়নও বেশ গতি পায়। জেলা স্টেডিয়ামে ফ্লাডলাইট স্থাপন এবং বিভাগীয় স্টেডিয়াম এর জায়গা নির্বাচন সব কিছুই দক্ষতার সাথে চালিয়ে নিতে থাকে আরেফ।
২০০৬ সালের শেষের দিকে হঠাৎ আরেফ আমার কাছে রাখা লাক্কাতুরা মাঠের ধারণ করা সেই ভিডিও’র ক্যাসেটটি দিতে বলে। জানায় ওই ক্যাসেট নিয়ে ঢাকায় যাবে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে। এর বেশি কিছু আর আমাদের জানায়নি। শুধু এটুকই জানায় খুব জরুরি। ঢাকা থেকে ফিরে সব বলবে। আমরাও অপেক্ষায় থাকি। দুদিন দিন পরই আরেফ ফিরে আসে ঢাকা থেকে। আমরা বিস্তারিত জানার জন্য খুবই উদগ্রীব ছিলাম। যা জানলাম, চমকে গেলাম আমরা। কে বা কারা লাক্কাতুরা মাঠের একটি ছবি অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছে, যেখানে রয়েছে মাদ্রাসার সাইনবোর্ড সংবলিত একটি ঘর, বলা হয়েছে ওখানে নাকি একটি মাদ্রাসা রয়েছে, ওই জায়গা মাদ্রাসার। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এখানে যেহেতু মাদ্রাসা রয়েছে তাই বিভাগীয় স্টেডিয়াম করা ঠিক হবে না। তখনই আরেফ অর্থমন্ত্রীকে সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়া ভিডিও ক্যাসেটটি দেখায়। ওই ভিডিওতে মাঠ এবং চতুর্পাশের টিলার চিত্র ছিল। সেখানে স্পষ্টভাবেই বুঝা যাচ্ছিলো মাদ্রাসার অস্তিত্ব নেই। অর্থমন্ত্রীর বোঝার বাকি থাকে না যে এটি কোন মহলের চক্রান্ত। আমরা সবাই আরেফের দূরদর্শী চিন্তার প্রশংসা করি। তার কারণেই ছিন্ন হয় চক্রান্তের জাল। ২০০৬ সালের শেষের দিকে আমাদের কাঙ্ক্ষিত বিভাগীয় স্টেডিয়ামের জন্য জায়গা এবং অর্থ বরাদ্দ করেন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। প্রথম পর্যায়ে পশ্চিম দিকের টিলা অপসারনের জন্য দরপত্র আহবান করেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক এম এ ফয়সল। মাটি সরানোর কাজ শুরু হয়। আমরাও আশায় বুক বাঁধি নুতন বিভাগীয় স্টেডিয়ামের। (চলবে)
ফেরদৌস চৌধুরী রুহেল, ক্রীড়া সংগঠক


