স্পোর্টস ডেস্ক ::
সুপার ফোরে উঠতে হলে আফগানিস্তানকে হারানোর বিকল্প ছিল না বাংলাদেশের। আপাতত প্রথম লক্ষ্যে সফল হয়েছে বাংলাদেশ। আফগানিস্তানকে ৮ রানে হারিয়ে সুপার ফোরের আশা বাঁচিয়ে রাখলো বাংলাদেশ। মোস্তাফিজের করা শেষ ওভারের শেষ বলে নুর আহমেদ নুরুল হাসানের হাতে ক্যাচ দিতেই শেষ ম্যাচ। ১৪৬ রানে অলআউট আফগানিস্তান। এই জয়ে তিন ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে প্রথম পর্ব শেষ করল বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিং করে ৫ উইকেটে ১৫৪ রান করেছিল বাংলাদেশ। পারভেজ ইমনের জায়গায় একাদশে ফিরে সাবলীল ব্যাটিং করতে না পারলেও তানজিদ তামিমের সঙ্গে ওপেনিং জুটিতে ৬৩ রান যোগ করেন সাইফ হাসান। ২৮ বলে ৩০ রানের ইনিংস খেলে তিনি। নতুন বলে শট খেলতে ব্যর্থ হওয়া এই ব্যাটার দুটি চার ও একটি ছক্কা মারেন। পরেই সাজঘরে ফেরা অধিনায়ক লিটন দাস ১১ বলে ৯ রান করেন।
ঝড়ো ব্যাটিংয়ে রান বাড়িয়ে নেওয়া তানজিদ তামিম তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে দলের ১০৪ রানে ফিরে যান। তার ব্যাট থেকে ৩১ বলে ৫২ রান আসে। তিনি চারটি চার ও তিনটি ছক্কা তোলেন। চারে ব্যাট করা তাওহীদ হৃদয় এদিনও প্রত্যাশা মেটাতে পারেননি। তিনি ২০ বলের মুখোমুখি হয়ে ২৬ রান করেন। একটি করে চার ও ছক্কা মারেন। স্লগে শামীম ১১ বলে ১১ রান করেন। জাকের ১৩ বলে ১২ ও সোহান ৬ বলে ১২ রানের হার না মানা ইনিংস খেলেন। রান প্রত্যাশা ১৭০ রানের ওপরে থাকলেও দেড়শ’র পরই আটকে যায় বাংলাদেশ।
লড়াই করার পুঁজি পেলেও শঙ্কার কারণ হয় লিটন দাসদের একজন বোলার কম নিয়ে একাদশ সাজিয়ে পার্ট টাইম স্পিনার সাইফ হাসান ও শামীম পাটোয়ারির অফ স্পিনে ভরসা রাখায়। রশিদ খান ও নুর আহমেদদের বোলিং ওই শঙ্কা আরও প্রকট করে। স্পিনার নাসুম আহমেদ ও রিশাদ আহমেদ এবং পেসার মুস্তাফিজ দুর্দান্ত বোলিং করলেও শঙ্কা সত্যি প্রমাণ করেন সাইফ ও শামীম।
নাসুম যেখানে ৪ ওভারে মাত্র ১১ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন এবং রিশাদ ৪ ওভারে ১৮ রান খরচায় ২ উইকেট নিয়েছেন, সেখানে সাইফ ৩ ওভারে দিয়েছেন ৩৯ রান। শামীম ১ ওভারে হজম করেছেন ১৬ রান। তাদের ৪ ওভারে ৫৫ রান খেয়ে হারতে বসা দলকে বাঁচিয়েছেন মুস্তাফিজ। তিনি ৪ ওভারে ২৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন। ১৯তম ওভারে ৫ রান দিয়ে জোড়া শিকার করেছেন। তাসকিন তার ৪ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট।
আফগানিস্তানকে টপকে আপাতত পয়েন্ট তালিকার দুইয়ে উঠল বাংলাদেশ। দুই ম্যাচে দুটি জয় পাওয়া শ্রীলঙ্কার পয়েন্টও ৪। তবে শ্রীলঙ্কা নেট রান রেটের হিসেবে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছে। শ্রীলঙ্কার নেট রাট রেট +১.৫৪৬, বাংলাদেশের –০.২৭০।
এই শ্রীলঙ্কার হাতেই অবশ্য বাংলাদেশের সুপার ফোরে ওঠার চাবিকাঠি। বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কা আফগানিস্তানকে হারালেই সুপার ফোরে যাবে বাংলাদেশ। ম্যাচটি পরিত্যক্ত হলেও বাংলাদেশই উঠবে সুপার ফোরে। তবে আফগানিস্তান জিতে গেলে আফগানরা উঠে যাবে সুপার ফোরে।


