এস এম সুজন ও এম কে তুহিন ::
সিলেট নগরে দিনের বেলা ট্রাক প্রবেশ নিষেধ। সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নগরে ট্রাক প্রবেশের অনুমতি নেই। সিলেটের পর্যটনকেন্দ্র থেকে পাথর লুটের ঘটনার পর ট্রাক চলাচলে নজরদারি আরও বেড়েছে। অভিযোগ, এত বিধিনিষেধ আর কড়াকড়ির মাঝেও নগরের বিভিন্ন পয়েন্টে দায়িত্বে থাকা কিছু ট্রাফিক সদস্যের কল্যাণে ঠিকই দিনের বেলা অবাধে ট্রাক ঢুকছে নগরে। আধুনিক কাগজের সরেজমিন অনুসন্ধানে এর সত্যতাও মিলেছে। ট্রাক ড্রাইভাররা বলছেন, নিষেধ থাকলেও ট্রাফিক সদস্যদের হাতে নগদ টাকা গুঁজে দিলে ঠিকই প্রবেশের অনুমতি মেলে।
https://www.youtube.com/embed/pVsLCdJyZ94
বুধবার (২৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টা। হুমায়ুন রশীদ চত্বর থেকে শাহজালাল সেতু দিয়ে নগরে প্রবেশ করছিলো ্একটি পণ্যবোঝাই ট্রাক। ক্যামেরার উপস্থিতি টের পেয়ে নড়েচড়ে বসেন দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক সদস্যরা। দায়িত্বে থাকা টিআই মোশাররফ হোসেন সটকে পড়েন। এগিয়ে এসে ট্রাকটিকে ঘুরিয়ে দেন টিএসআই শাহীন মোল্লা। এ সময় তিনি কালো চশমার আড়ালে ক্যামেরার দিকেও তাকান। পিছু হটে ট্রাকটি কয়েকশ গজ পেছনে নিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখেন ড্রাইভার। অপেক্ষায় থাকেন পরবর্তী নির্দেশনার। একে একে আরও কয়েকটি ট্রাক এসে দাঁড়ায় প্রথম ট্রাকটির পেছনে।
আধুনিক কাগজ টিম ক্যামেরার অবস্থান পরিবর্তন করে। উত্তর প্রান্ত থেকে দক্ষিণ প্রান্তে চলে আসে ক্যামেরা। উত্তর প্রান্তে ক্যামেরা দেখতে না পেয়ে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ট্রাকগুলোকে নগরের ভেতরে ঢুকার অনুমতি দেন ট্রাফিক সদস্যরা। পৌনে একটার দিকে মেন্দিবাগে দেখা মেলে ট্রাকগুলোর। সেখানেই দাঁড়িয়েছিলো ট্রাকগুলো। কথা হয় ড্রাইভারদের সাথে। প্রথমে তারা কিছুই বলতে চাননি পরে স্বীকার করেন ৮শ থেকে হাজার টাকা দিলে যখন-তখন ট্রাক প্রবেশের অনুমতি মেলে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার (ট্রাফিক) মাহফুজুর রহমানকে ফোন দিলে তিনি জানান তিনি এখন সিলেটের বাইরে আছেন। তিনি পরামর্শ দেন অতিরিক্ত উপকমিশনার রাখী রানী দাসের সাথে আলাপের। কথা হয় রাখী রাণী দাসের সঙ্গে।
উপ-কমিশনার রাখী রানী দাস বলেন, নগরীতে ট্রাক চলাচল করতে পারে মূলত রাত ১০ ঘটিকা থেকে সকাল ৮ ঘটিকা পর্যন্ত। ট্রান্সপোর্টও বন্ধ থাকবে। যদি না কোন জরুরী পণ্যবাহী না হয়।


