আধুনিক রিপোর্ট ::
সিলেটে পুলিশের হেফাজতে নিহত রায়হান আহমদ (৩৪) হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাময়িক বরখাস্ত পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে ৯ নভেম্বর কানাইঘাট সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার পরই তিনি ভারতের মেঘালয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন। গ্রেপ্তারের পর থেকেই কারাগারে ছিলেন আকবর। রোববার (১০ আগস্ট) আকবর হোসেন উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে কারাগার থেকে বের হন। গুঞ্জন উঠেছে জামিন পেয়েই আবার ভারতে পালিয়ে গেছেন আকবর হোসেন। বুধবার (১৩ আগস্ট) সাংবাদিক রায়হান আহমদের মা সালমা বেগমও দাবি করেন আকবর ভারতেই পালিয়ে গেছেন। যদিও মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) রাষ্ট্রপক্ষ পিটিশন ফর লিভ টু আপিল দায়ের করলে শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার জজ উচ্চ আদালতের আদেশ স্থগিত করেন। পাশাপাশি আকবর হোসেনকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।
সালমা বেগম বলেন, আকবর হোসেন প্রথমেই ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তখন পুলিশ অনেক কষ্টে কানাইঘাটের ডনা সীমান্ত থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। জামিন পেয়েই যে পালানোর চেষ্টা করবে, সেটা স্বাভাবিক ছিল। তার ধারণা পালিয়ে যাওয়ার জন্য আগে থেকেই সবকিছু ব্যবস্থা করে রাখা ছিলো। এর আগে আকবর হোসেনের জামিনের সংবাদ পেয়ে আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়ে সালমা বেগম বলেছিলেন, চার বছর ধরে আমার সন্তানের হত্যার সঠিক বিচারের আশায় ছিলাম। আকবর মুক্ত হওয়ায় যথাযথ বিচার থেকে আমি বঞ্চিত হলাম।
সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদুল্লাহ শহীদুল ইসলাম শাহীন আধুনিক কাগজকে বলেন, প্রত্যেকেরই আইনি বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। সে হিসেবে আকবর হোসেনেরও জামিন পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু চাঞ্চল্যকর এই মামলার ক্ষেত্রে রায় না হওয়া পর্যন্ত আসামির কারাগারে থাকা উচিত ছিলো। আমার ধারণা উচ্চ আদালতে যখন জামিন শুনানি হয় রাষ্ট্রপক্ষ মামলার যথাযথ চিত্র বিচারকদের সামনে তুলে ধরতে পারেননি।
২০২০ সালের ১০ অক্টোবর মধ্যরাতে সিলেট মহানগর পুলিশের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে রায়হান আহমদকে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ। পরে ১১ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়।


