আধুনিক ডেস্ক ::
শিক্ষা উপদেষ্টা ও শিক্ষাসচিবের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সচিবালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপে আহত ৭৫ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ জুলাই বিকেল ৪টা ১০ মিনিটের দিকে সচিবালয়ের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় তারা শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে এবং সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ার শব্দ শোনা যায়। এ ছাড়া কাঁদানে গ্যাসের শেলও ছোড়া হয়েছে।
লাঠিপেটা, সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে এক পর্যায়ে সচিবালয় থেকে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে সচিবালয় সংলগ্ন জিপিও মোড়ে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এর আগে বিকেল পৌনে চারটার দিকে শিক্ষার্থীরা ফটক খুলে সচিবালয়ের ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর সচিবালয়ের ভেতর পার্কিং অবস্থায় থাকা বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। গাড়ি ভাঙচুরের জেরে শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা শিক্ষার্থীদের সচিবালয় থেকে বের করে দেন। এরপর সচিবালয়ের সামনে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে পুলিশ। পাল্টায় শিক্ষার্থীরা পুলিশের দিকে ইট–পাটকেল নিক্ষেপ করে। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা পিছু হটে একদল পুরানা পল্টন মোড়ের দিকে এবং আরেক দল বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ ফটকের দিকে সরে যান। সন্ধ্যা ৬টার দিকে শিক্ষার্থীদের একটি অংশকে স্টেডিয়াম এলাকায় অবস্থান নিতে দেখা গেছে।
এর আগে বেলা আড়াইটার দিকে শিক্ষা উপদেষ্টা ও শিক্ষাসচিবের পদত্যাগের দাবিতে সচিবালয়ের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা আড়াইটার দিকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সচিবালয়ের এক নম্বর গেটের সামনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। তাঁরা ‘ভুয়া ভুয়া’ ও ‘আমার ভাই মরল কেন, প্রশাসন জবাব দে’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
সোমবার (২১ জুলাই) রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৩১ জন নিহত এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে গভীর রাত ৩টার দিকে মঙ্গলবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেয় সরকার। এসব ঘটনার জেরে শিক্ষা উপদেষ্টা ও শিক্ষাসচিবের পদত্যাগ দাবিতে বেলা আড়াইটার দিকে সচিবালয়ের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
