মঙ্গলবার, জুলাই ১৬, ২০২৪
Google search engine
Homeমৌলভীবাজারধলাই নদী গর্ভে বিলীনের পথে একাধিক পরিবার; ঝুঁকির মধ্যে বসবাস

ধলাই নদী গর্ভে বিলীনের পথে একাধিক পরিবার; ঝুঁকির মধ্যে বসবাস

নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, কমলগঞ্জ
সম্প্রতি সময়ে ভারী বর্ষন ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কমলগঞ্জ উপজেলার খরস্রোতা ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীতে স্রোতের পানি বৃদ্ধি পেলে নদীর তীরবর্তী প্রতিরক্ষা বাঁধ সমুহে ধ্বস নামতে শুরু করে। পরে পানি কমে যাওয়া নদী তীরবর্তী কয়েকটি গ্রামের বেশকিছু বাড়িঘর নদীতে বিলীন হওয়ার পথে রয়েছে। নদীর পুরো ৫৭ কি.মি. এর মধ্যে উপজেলার ইসলামপুর, মাধবপুর, কমলগঞ্জ সদর, মুন্সীবাজার, রহিমপুর ইউনিয়ন ও পৌরসভার বেশ কিছু এলাকা হুমকির মুখে রয়েছে। পশ্চিম ঘোড়ামারা গ্রামে ধলাই নদীর ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে।
ঘোড়ামারা গ্রামের তাজউদ্দিন আহমেদসহ স্থানীয়রা জানান, গত জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে এবং গত সপ্তাহে আকস্মিক বন্যা ও নদীতে পানি বৃদ্ধিতে পশ্চিম ঘোড়ামারা এলাকার নদীর তীরে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গত কোরবানি ঈদের পর কমলগঞ্জে বন্যা দেখা দেয়। এসময় কমলগঞ্জ সদর, মুন্সীবাজার ও রহিমপুর ইউনিয়নে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। এতে উপজেলার অধিকাংশ এলাকা বন্যা কবলিত হয়। একই সময়ে খরস্রোতা ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের দু’তীরে দেখা দেয় ধ্বস ও ফাটল। নদীভাঙনে নদী তীরবর্তী রমিজ আলী, আবেদা বেগমসহ ৩ পরিবার বাড়িঘর সরিয়ে নিলেও হোসেন আলী, হেলাল উদ্দীন, মজিদা বেগমসহ ৪ পরিবার তাদের বাপ-দাদার বসতভিটা আঁকড়ে ধরে রাখতে ঝুঁঁকি নিয়ে নদীর তীরে বসবাস করছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্রে জানা যায়, উজানের পাহাড়ি ঢল এবং একের পর এক অকাল বন্যার ভাঙনে নদীর দুই পাড়ের ৫৭ কিলোমিটার বাঁধে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একইসঙ্গে নদীর ৩৮ কিলোমিটার বাঁধ পুরোটাই নড়বড়ে হয়ে আছে। জুনের পাহাড়ি ঢলে চৈত্রঘাট, চৈতন্যগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর গ্রামসহ নতুন পুরাতন মিলিয়ে নদীর অন্তত ৮টি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছিল। এ ভাঙনে এলাকার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
আলাপকালে পশ্চিম ঘোড়ামারা গ্রামের হোসেন আলী বলেন, নদী গর্ভে বিলীন হওয়ায় ৩টি পরিবারকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আমাদের ৪টি পরিবার অত্যন্ত ঝুঁকিতে পড়েছে। আমরা এখন আর ত্রাণ চাই না। ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান চাই।
আদমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবদাল হোসেন বলেন, ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের পশ্চিম ঘোড়ামারাসহ ইউনিয়ন এলাকার ৪টি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক এলাকায় বসতঘর বিলীন হচ্ছে নদীগর্ভে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজার এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল বলেন, ধলাই নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ার পর এবং পানি কমতে শুরু করলে বিভিন্ন স্থানে তীব্র ভাঙন শুরু হয়। এতে অনেক বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রতিরক্ষা বাঁধও। ধলাই নদীর স্থায়ীভাবে ভাঙন রক্ষায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ৫৩০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে ধলাই নদীভাঙন অনেকটা লাঘব হবে।

প্রাসঙ্গিক সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

জনপ্রিয়

Recent Comments