শাবি প্রতিনিধি: সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রদল ক্যাম্পাসের চলমান প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং আসন্ন শাবিপ্রবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচনে অবস্থান ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো তুলে ধরেন।
রোববার (১৯ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে বারোটায় রাহাত জামানের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনে লিখত বক্তব্য রাখেন শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাইম সরকার।
প্রশাসনের ছায়ায় বা গোপনে কিছু সংগঠন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে নাইম সরকার বলেন, “প্রশাসনের ছায়ায় বা গোপনে যেসব সংগঠন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে তারাই সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবে। ফলে প্রতিযোগিতা নয়, বরং অসম প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হবে। এর কারণে ঐক্য নয়, বিভাজন সৃষ্টি করবে। আমরা চাই, শাকসু নির্বাচন হোক এমন এক পরিবেশে- যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী সংশয়মুক্তভাবে নিজের ইচ্ছায় অংশ নিতে পারে।
দলীয় অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন,”দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার শাসনামলে প্রশাসনিক বাধা ও দমননীতির কারণে আমরা ক্যাম্পাসে রাজনীতি করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলাম। তারপরও আমরা সক্রিয়ভাবে জাতীয় পর্যায়ের আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি। আমরা কখনো গোপন, সহিংস বা অগণতান্ত্রিক পথে যাইনি, কারণ আমরা বিশ্বাস করি- নৈতিকতার উপর দাঁড়িয়েই সত্যিকারের রাজনীতি টিকে থাকে। “
অন্যদিকে, কিছু সংগঠন গোপনে বা রূপ বদলে কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও তা গণতান্ত্রিক মানদণ্ডে কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা বিশ্বাস করি, স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা ও সমান সুযোগই গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভিত্তি।
হলের সিট বরাদ্দে সমস্যা উল্লেখ করে নাইম সরকার বলেন,”সাধারণ শিক্ষার্থীর জীবনের সবচেয়ে বড় বাস্তব সমস্যা হলো হল সিট পাওয়া।কিছু সংগঠনের ঘনিষ্ঠ বা প্রশাসনিক সুবিধাভোগী শিক্ষার্থীরা নানা কৌশলে সিট দখল করে রেখেছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতি সরাসরি অন্যায় ও বৈষম্য সৃষ্টি করছে।মৌলিক অধিকারও এখন অব্যবস্থা, অস্বচ্ছতা ও পক্ষপাতের শিকার।”
যে প্রশাসন সিট বরাদ্দে ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে পারে না, তারা কীভাবে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করবে?”
শাকসু নির্বাচন সম্পর্কে তাদের প্রস্তাবনা হিসাবে বলেন,”যখন ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হবে, তখন শাকসু নির্বাচন কার্যক্রম প্রক্রিয়া শুরু করা। কেননা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। কিন্তু প্রশাসনের সিদ্ধান্তে দেখা যাচ্ছে, কিছু নির্দিষ্ট পক্ষের জন্য সুবিধাজনক পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। এটি ঐক্য নয়, বিভাজন সৃষ্টি করবে। আমরা চাই, শাকসু নির্বাচন হোক এমন এক পরিবেশে- যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী সংশয়মুক্তভাবে, নিজের ইচ্ছায় অংশ নিতে পারে।”
এছাড়া নাইম সরকার বলেন, হল সিট বরাদ্দে, কোটার প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক নীতিমালা স্বচ্ছ ও সবার জন্য সমানভাবে করার দাবি জানানো হয়। জুলাই- আগস্টের আন্দোলনের প্রকৃত চেতনা ধারণ, সংরক্ষণ ও বাস্তবায়নের স্বার্থে ক্যাম্পাসের সকল অংশীজনের ঐক্যের ভিত্তিতে “স্মার্ট ও সুরক্ষিত ক্যাম্পাস সনদ-২০২৫” প্রণয়ন অপরিহার্য ।শিক্ষার মান, গবেষণার সুযোগ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষার্থী কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিতে, প্রশাসন ও শিক্ষক সমাজ রাজনৈতিক পক্ষপাত থেকে মুক্ত থেকে ন্যায়ের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের কাউকে বাদ দিয়ে নয়, বরং সবাইকে নিয়ে একটি সহাবস্থানমূলক, ন্যায্য ও নিরাপদ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার আহ্বান জানান – যেখানে গণতন্ত্র, স্বাধীন চিন্তা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বিকশিত হবে।
