আধুনিক রিপোর্ট ::
সিলেটকে তখন বাংলা থেকে কেটে নতুন হওয়া আসাম প্রদেশের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছিলো। সিলেটের বাসিন্দারা তা মানতে পারেননি। ১৮৭৪ সালে তাদেরকে মানাতে সিলেট আসতে হয় বাংলার গভর্নর লর্ড নর্থব্রুককে। তার সম্মানের মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার পৃত্থিমপাশার জমিদার নবাব আলী আহমদ খান সুরমা নদীর উত্তর তীরে একটি ঘড়িঘর নির্মাণ করেন। ঘড়িটি পরিচিতি পায় তার ছেলে আলী আমজদ খানের নামে। কালের পরিক্রমায় এ ঘড়িটি হয়ে ওঠে সিলেটের একটি পরিচয়ের স্মারক।
দেড় শতাব্দীর সাক্ষী ঐতিহ্যবাহী আলী আমজদের ঘড়িপ্রাঙ্গনে জুলাইয়ের শহীদদের স্মরণে স্মৃতিফলক ‘স্ট্রিট মেমোরি স্ট্যাম্প’ স্থাপন করা হচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার অংশবিশেষ আড়াল করে স্মৃতিফলক নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে সমালোচনা। এতে ঘড়িঘরের প্রকৃত স্থাপত্যশৈলী আড়ালে পড়ে যাচ্ছে, এমনটাই দাবি সমালোচনাকারীদের। তাদের ভাষ্য, স্মৃতিফলকের জন্য অন্য কোনো স্থান বেছে নেওয়া যেত।
তারা বলছেন, আলী আমজদের ঘড়িঘরের আশপাশের এলাকায় অনেক উন্মুক্ত জায়গা আছে। সেসব জায়গায় স্মৃতিফলক নির্মাণ না করে ঠিক ঘড়িঘর ঘেঁষে এ স্মৃতিফলক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া ঠিক হয়নি। জুলাই শহীদদের স্মরণে স্মৃতিফলক নির্মাণ অবশ্যই প্রয়োজনীয়, তবে সেটা করতে গিয়ে আরেকটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার সৌন্দর্য নষ্ট করা ঠিক নয়।
জানা গেছে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান চলাকালে যাঁরা শহীদ হয়েছেন, তাদের স্মরণে প্রত্যেকের জন্য আলাদাভাবে ঘটনাস্থলে কিংবা ঘটনাস্থলের পাশে একই নকশায় ‘স্ট্রিট মেমোরি স্ট্যাম্প’ নামে স্মৃতিফলক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সিলেট নগরে চারজন শহীদের স্মরণে এমন স্মৃতিফলক নির্মাণের কাজ গত জুলাই মাসে শুরু হয় এবং আগস্ট মাসে শেষ হওয়ার কথা। নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে সিলেট সিটি করপোরেশন।
সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, স্মৃতিফলক নির্মাণের স্থান চূড়ান্ত করতে একটি কমিটি গঠিত হয়েছে। বিশেষত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শহীদদের শহীদ হওয়ার স্থান দেখিয়ে দিয়েছেন। সে অনুযায়ী ঘটনাস্থল ও ঘটনাস্থলের কাছাকাছি স্মৃতিফলক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। আলী আমজদের ঘড়ির সামনে মো. পাবেল আহমদ কামরুল ও পঙ্কজ কুমার কর শহীদ হন। তাই কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেখানে দুই শহীদ স্মরণে স্মৃতিফলক নির্মিত হচ্ছে।
এর বাইরে কোর্ট পয়েন্ট মধুবন মার্কেটের সামনে শহীদ সাংবাদিক আবু তাহের মো. তুরাব এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শিক্ষার্থী রুদ্র সেনের স্মরণে ঘটনাস্থলের পাশে স্মৃতিফলক নির্মিত হচ্ছে। প্রতিটি ফলক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৩৭৫ টাকা।
