জুবেল আহমেদ, ওসমানীনগর:
সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর অংশ, মহাসড়ক নয় যেন একটি মরণফাঁদ। কোথাও পিচ উঠে গেছে, কোথাও উঁচু-নিচু ঢেউখেলানো, আবার কোথাও ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হেলেদুলে চলছে ভারী যানবাহন। এতে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা, প্রাণ হারাচ্ছেন চালক-হেলপার ও যাত্রীরা। অনিরাপদ এই সড়কটিতে চলাচল নিরাপদ করতে দফায় দফায় সংস্কার করলেও তার কোনো সুফল পাচ্ছে না চালক ও যাত্রীরা। একদিকে যেমন প্রাণহানি হচ্ছে অন্যদিকে গাড়ি ভেঙেচুরে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় যানবাহন মালিকদের অপূরণীয় ক্ষতিও হচ্ছে।

তাদের অভিযোগ, সংস্কারের আওতায় বেহাল অংশ জুড়ে বসানো হচ্ছে ইটের সলিং,পাথ, সিমেন্ট ও বালু মিশ্রিত করে নামে মাত্র মেরামত করা হলেও কয়েকদিনের মধ্যেই সড়ক ফিরে পুরোনো রূপে। এমন অপরিকল্পিত সংস্কারকে লোকজন সরকারি টাকার অপচয় হিসাবেই ভাবছেন।
জানা যায়, ২০০৫ সালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক নতুন করে নির্মাণের পর এই সড়কে আর বড় ধরণের কোনো মেরামত হয়নি। গত ২০ বছরে এই অংশে সংস্কারের বড় কোনো উদ্যোগ না নিয়ে মেরামতের নামে শুধু ছোট-বড় গর্তের উপর নিম্নমানের ইট, পাথর, বালু ফেলা হয়েছে। এতে করে মাহাসড়কের অবস্থা আর খুবই করুণ হয়েছে। চলতি মাসেও একাধিকবার সওজ’র গাড়িতে করে মহাসড়কে গর্ত ভরাট ও উঠে যাওয়া কার্পেটিংয়ে তালি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মহাসড়কের এই অপরিকল্পিত সংস্কার জনভোগান্তি বাড়িয়ে তুলেছে কয়েকগুণ। বৃষ্টি হলে গর্তে জমা কাদা-পানি ছিটকে বিব্রত হতে হয় পথচারীদের। আর রোদের দিনে ধুলোময় হয়ে ওঠে চারপাশ। ফলে এই সড়কে যান চালক ও যাত্রীদের দুর্ভোগের শেষ নেই।
এছাড়া ফুটপাত দখল,অবৈধ ত্রিহুইলার,সিএনজির স্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন প্রকার নির্মাণসামগ্রী রেখে দখলে রাখা হয়েছে মহাসড়কের দুইপাশ। রাস্তার মধ্যভাগে ছোট-বড় গর্ত থাকায় যানগুলো একটু পাশ ঘেঁষে গেলেই ঘটছে দুর্ঘটনা।
চলতি বছরে মহাসড়কের ওসমানীনগর অংশে ৭ টি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৯ জন। আহত হয়েছেন ১৭ জনেরও বেশি।
এদিকে,সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক উন্নতিকরণের লক্ষ্যে ৬ লেনের কাজ চলমান থাকায় প্রায় সময়ই সড়কে তীব্র যানজট দেখা দেয়। চলমান কাজের কারণে দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কটিতে নিয়মিত সংস্কার কাজ চালাতে না পারায় বিভিন্ন অংশে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত তৈরি হয়েছে। এছাড়া ছয় লেন প্রকল্প কাজের জন্য মহাসড়কে যানবাহনের ধীরগতির কারণে ভোগান্তি আরও বেড়েছে কয়েকগুন।
স্থানীয় ট্রাক চালক কাদির মিয়া বলেন, ‘মহাসড়কে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত থাকার কারণে গাড়ি চালানো খুবই কষ্টকর। গাড়ির স্টিয়ারিং ধরে রাখা কঠিন। আর সংস্কারের নামে গর্তে ইট, পাথর, মাটি ফেলে যাওয়ার পর গাড়ির চাপে সেগুলো সরে যায়। একটু এদিক-ওদিক হলেই ঘটছে দুর্ঘটনা। পেটের জন্য জীবনের ঝুকি নিয়ে সড়কে গাড়ি চালাচ্ছি।
সিলেট টু শেরপুর মহাসড়কে বাসচালক আব্দুল আহাদ বলেন, ‘মহাসড়কের ওসমানীনগর অংশে ব্যাপক খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এতে বাস চালাতে খুবই সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া সব সময় সড়কে যানজট লেগেই থাকে। খানাখন্দে ভরা সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় গাড়িতে প্রচন্ড ঝাঁকুনি হয়। এ নিয়ে যাত্রীরা খুব বিরক্ত হন। তাই অতি জরুরি সড়কটি সংস্কার করা।
এ বিষয়ে সিলেট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমির হোসেন বলেন,মহাসড়কের উন্নয়ন কাজ চলমান আছে। ভাঙ্গা স্থানগুলোর দেখার জন্য প্রজেক্ট ম্যানাজারকে বলব।
