স্পোর্টস ডেস্ক ::
৬ বলে ৫ রান দরকার। দাসুন শানাকার করা শেষ ওভারের প্রথম বলে ৪ মেরে ব্যবধানটাকে ১ রানে নামিয়ে আনলেন জাকের আলী। সেই ১ রান করতে আরও ৪ বল খেলতে হলো বাংলাদেশকে। দ্বিতীয় বলে বোল্ড জাকের। তৃতীয় বলে রান হয়নি। চতুর্থ বলটি ছিল শর্ট, সেই বলে উইকেটকিপারকে ক্যাচ দিলেন মেহেদী হাসান। অন্য প্রান্তে তখন শামীম হোসেন রাগে কাঁপছিলেন। পরের বলটায় নতুন ব্যাটসম্যান নাসুম আহমেদ শর্ট থার্ডম্যানে পাঠিয়েই ১ রান নিয়ে দলকে জিতিয়ে দিলেন। ১ বল ও ৪ উইকেট হাতে নিয়ে জিতে সুপার ফোর শুরু করল বাংলাদেশ।
শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ১৬৯ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে জিতল বাংলাদেশ। টি–টোয়েন্টি এর চেয়ে বড় লক্ষ্য ছুঁয়ে বাংলাদেশ জিতেছে মাত্র দুটি ম্যাচ। ২০১৮ সালে নিদাহাস ট্রফিতে এই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই সর্বোচ্চ ২১৫ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে জিতেছিল বাংলাদেশ। এশিয়া কাপ টি–টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ এত রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে জেতেনি কখনো। এর আগে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জিতেছে এবারের এশিয়া কাপেই হংকংয়ের দেওয়া ১৪৪ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে।
রান তাড়ায় বাংলাদেশের শুরুটা ভালো হয়নি। ওপেনার তানজিদ ফিরেছিলেন দলকে ১ রানে রেখে ব্যক্তিগত শূন্য রানে। এরপর অধিনায়ক লিটন দাসকে নিয়ে ৫৯ রানের জুটি গড়েন সাইফ হাসান। সাকিব আল হাসানকে পেছনে ফেলে আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি রান করার রেকর্ড গড়ার পর লিটন ফিরে যান। বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রান এখন লিটনের। শনিবার তিনি আড়াই হাজার রানের মাইলফলক পেরিয়েছেন। লিটনের বিদায়ের পর তাওহিদ হৃদয়কে নিয়ে ৫৪ রান যোগ করেন সাইফ হাসান। বাংলাদেশের জার্সিতে টি–টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় ফিফটি করা সাইফ ফিরেন ৪৫ বলে ৬১ রান করে। সেখান থেকে শামীম হোসেনকে নিয়ে ২৭ বলে ৪৫ রান যোগ করে শ্রীলঙ্কাকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন হৃদয়। ১৯তম ওভারে জয়ের ১০ রান আগে ফিরেন ৩৭ বলে ৫৮ রান করা হৃদয়। এরপর শেষের ওভারের ওই নাটক। নাটকীয় এই ম্যাচে সেরার পুরস্কার পেয়েছেন সাইফ হাসান।
এর আগে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিংয়ে তাসকিন আহমেদকে শেষ বলে ছক্কা মেরে ইনিংসের ইতি টানেন দাসুন শানাকা। শানাকার ষষ্ঠ ছক্কাটি শ্রীলঙ্কাকে এনে ১৬৮ রানের পুঁজি। ৭ উইকেট হারিয়ে এই রান তুলে শ্রীলঙ্কা। লঙ্কানদের সেরা ব্যাটার দাসুন শানাকা। ৬ ছক্কা ও ৩ চারে ৩৭ বলে অপরাজিত ৬৪ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। কুশল মেন্ডিস করেন ৩৪ রান। বাংলাদেশের হয়ে সেরা বোলিং নৈপুণ্য দেখান মুস্তাফিজুর রহমান। ১৯ রানে নেন ৩ উইকেট। শেখ মেহেদী জোড়া শিকার করেন ২৫ রান দিয়ে। বল হাতে উদারতা দেখিয়েছেন শরিফুল ইসলাম, ৪ ওভারে বিলি করেছেন ৪৯ রান।
২৪ সেপ্টেম্বর সুপার ফোরে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ম্যাচ, প্রতিপক্ষ ভারত।
