দোয়ারাবাজার প্রতিনিধিঃ
দোয়ারাবাজার উপজেলায় ফুটবল খেলা নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় ২ জন নিহত হয়েছেন। দুইপক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ফুটবল খেলার মাঠে শুক্রবার বিকেলে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় নিহতরা হলেন লক্ষীপুর ইউনিয়নের জিরারগাঁও গ্রামের মরহুমা বীরাঙ্গনা কাকন বিবির মেয়ে সখিনা বেগমের স্বামী আব্দুল মতিন (৫০) ও এলাকার লক্ষীপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে আকবর আলী (৪২)। এ ঘটনায় আরও ৫ জন আহত হয়েছেন। তবে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে থানা পুলিশ এলাকায় অভিযান চালিয়ে জিরাগাঁও গ্রামের নিহত আব্দুল মতিনের ছেলে মো. জাকারিয়া ও লক্ষীপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে জাবের মিয়াকে আটক করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এলাকায় দুটি হত্যাকাণ্ডের পর চরম উদ্বেগ—উৎকন্ঠায় স্থানীয়রা।
উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের একই এলাকায় সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় দু’জন নিহতের ঘটনায় এলাকায় উত্তাপ—উত্তেজনা বাড়ছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে একটি পক্ষ গতকাল শনিবার বিকেল ৪টায় আকবর আলী হত্যার বিচারের দাবিতে লক্ষীপুর গ্রামের রাস্তায় স্থানীয় বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসীর ব্যানারে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। মানববন্ধনে আকবর আলী হত্যার সুষ্ট বিচার ও দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, রাশরাই গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা জলিল মিয়া, লক্ষীপুর গ্রামের নিহতের ছোট ভাই সোহেল মিয়া, বোন হেপী বেগম, স্ত্রী সুফিয়া আক্তার, রাজ্জাক মিয়া, সফিক মিয়া, ময়না মিয়া প্রমুখ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে লক্ষীপুর মাঠে দু’পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ফুটবল খেলা চলছিলো। মাঠে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে আব্দুল মতিনের ছেলে কিবরিয়া ও আকবর হোসেনের ছেলে একরাম হোসেনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এনিয়ে খেলা শেষে দু’পক্ষের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। আকবর হোসেনের বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার পথে আব্দুল মতিনের উপর হামলা করা হলে গুরুতর আহত হন তিনি। এনিয়ে কিছু সময় পর উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। মতিনের উপর হামলার খবর পেয়ে আব্দুল মতিনের লোকজন স্থানীয় পশ্চিম বাজারে আকবর হোসেনের উপর হামলা করে। ওই হামলায় ও গুরুতর আহত হন আকবর হোসেন। দুটি ঘটনায় আহত হন ৭ জন। এর মধ্যে গুরুতর আহত আব্দুল মতিন ও আকবর আলীকে দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে দু’জনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অন্য ৫ জনকে স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর ইউপি চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম বলেন, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। বিষয়টির ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসন খোঁজ—খবর নিচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানাই।
দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। নিহত দু’জনের মরদেহ ময়না তদন্তের পর শনিবার দুপুরে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় দু’জনকে আটক করার পাশাপাশি থানায় মামলা দায়েরের প্রস্ততি চলছে।


