আধুনিক ডেস্ক ::
তিন বছর পর ওমান থেকে দেশে ফিরেছেন লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের পশ্চিম চৌপল্লী গ্রামের আবদুর রহিমের ছেলে আবদুল বাহার। তাই তাকে আনতে মা-নানি, স্ত্রী, মেয়েসহ পরিবারের সদস্যরা ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন। মঙ্গলবার রাত দুইটার দিকে বাহারকে নিয়ে বিমানবন্দর থেকে মাইক্রোবাস নিয়ে লক্ষ্মীপুরের উদ্দেশে রওনা দেন তারা। বুধবার ভোর পাঁচটার নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আলাইয়াপুর ইউনিয়নের পূর্ব জগদীশপুর এলাকায় মাইক্রোবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খালে পড়ে গেলে মা-নানি, স্ত্রী, মেয়েসহ পরিবারের ৭ সদস্যকে হারান বাহার। নিহতরা হলেন ফয়জুন নেসা (৮০), খুরশিদা বেগম (৫৫), কবিতা বেগম (৩০), লাবনী বেগম (৩০), রেশমি আক্তার (১০), মীম আক্তার (২) ও লামিয়া আক্তার (৯)।
নোয়াখালী ফায়ার সার্ভিস চৌমুহনী স্টেশনের কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক গণমাধ্যমকে জানান, মাইক্রোবাসটিতে চালকসহ ১১ জন ছিলেন। এর মধ্যে দুর্ঘটনার পর চালকসহ ৪ জন বের হয়ে যান। অন্য ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ব্যক্তিরা মাইক্রোবাসের পেছনের সিটগুলোতে ছিলেন। মাইক্রোবাসের চালকের ঘুম ঘুম ভাব থাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস।
দুর্ঘটনার বর্ণনা দিয়ে হাউমাউ করে কাঁদছিলেন বাহারG বলেন, ‘আমি ফিরে আসছিলাম সবাইরে বুকে জড়িয়ে ধরতে, অথচ চোখের সামনে সবাইরে হারাই ফেললাম। কারে ছেড়ে কারে বাঁচাব বুঝতে পারি নাই, আমি এখন কারে নিয়ে বাঁচব।’
বাহার বলেন, ‘গাড়িতে আমার মা, স্ত্রী, মেয়ে সবাই আছিল। গাড়ির মধ্যে নানা কিছু নিয়ে হাসাহাসি করছি সবাই। একসময় মা বলল—তোর জন্য কত অপেক্ষা করেছি, বাপ। কথাটা শেষ হয় নাই, বিকট শব্দের সঙ্গে একটা ধাক্কা খেলাম। এরপর সব ওলটপালট হয়ে গেছে।’
দুর্ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বাহার বলেন, ‘খালে পড়ে গাড়িটা নৌকার মতো ভাসতেছিল, ড্রাইভাররে বললাম দরজার লক খুলে দিতে। সে লক খুলে দিলে সবাই সাঁতার কেটে বের হতে পারতাম। কিন্তু ড্রাইভার লক না খুলে নিজে একটা জানালা দিয়া বের হইয়া গেছে। আমরা কয়েকজন পরে জানালা ভেঙে বের হইছি। আমার মা-মেয়েসহ বাকিরা গাড়িতেই শেষ।’
গাড়ির চালক ঘুম নিয়ে মাইক্রোবাসটি চালাচ্ছিলেন জানিয়ে বাহার বলেন, ‘কুমিল্লায়ও একবার গাড়িটা দুর্ঘটনায় পড়তে গিয়ে রক্ষা পাইছে। আমরা ড্রাইভাররে বললাম প্রয়োজনে একটু ঘুমিয়ে নিতে। কিন্তু তিনি ঘুম নিয়েই গাড়ি চালাতে গিয়া আবারও দুর্ঘটনায় পড়লেন।’


