মঙ্গলবার, জুলাই ১৬, ২০২৪
Google search engine
Homeরাজনীতিসিলেট-২ : এবারেও ভোটের মাঠে বড় ফ্যাক্টর 'নিখোঁজ' ইলিয়াস আলী!

সিলেট-২ : এবারেও ভোটের মাঠে বড় ফ্যাক্টর ‘নিখোঁজ’ ইলিয়াস আলী!


জুবেল আহমেদ, ওসমানীনগর:

সিলেট-২ (ওসমানীনগর-বিশ্বনাথ) আসনে এক সময়ে আওয়ামী লীগের শক্ত অবস্থান ছিল। তবে বিগত দুই মেয়াদে আসনটি জোটকে ছেড়ে দেওয়ায় সেটা এখন নড়বড়ে। নেতাকর্মীরা অনেকে নিষ্ক্রিয়। ভোটাররাও নানান ভাগে বিভক্ত। কেউ বিগত দুই নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে জাতীয় পার্টিকে সমর্থন করে তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়েছেন। যে কারণে দলের অনেকের কাছে নেতিবাচক হয়ে গেছেন। তবে দুই মেয়াদ পর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী পেয়েছেন ক্ষমতাসীন দলটির নেতাকর্মীরা। আবারো আসনটিতে ধীরে ধীরে অবস্থান নিচ্ছে দলটি।

তবে এই আসনে নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে বিএনপি। ভোটে না গেলেও রয়েছে দলটির বড় জনসমর্থন। যেকোন নির্বাচন এলেই এ আসনটিতে ভোট ফ্যাক্টর হয়ে দাড়ান বিএনপির সাবেক সংসদ ‘নিখোঁজ’ ইলিয়াস আলী। সিলেট-২ আসনে টানা তিনবার নির্বাচন করেছিলেন এম ইলিয়াস আলী। বিএনপির ‘নিখোঁজ’ এই নেতা বিজয়ী হয়েছিলেন দু’বার। এখনো তার ব্যাপক প্রভাব নির্বাচনী এলাকায়। ‘নিখোঁজ’ হলেও ভোটের মাঠে দৃশ্যমান আছেন তিনি। ইলিয়াস আলী গুম হওয়ার কারণে তার পরিবারের প্রতি আসনটির মানুষের সহানুভূতি কাজ করে। তারা একচেটিয়া ইলিয়াস পরিবারকেই ভোট দিতে মুখিয়ে। এমনকি এই পরিবারের সমর্থন নিয়ে এলেও যে কেউ এখানে পাস করবে বলে দাবি করছেন ভোটাররা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমনটি হয়েছেও। সিলেট-২ আসনে ইলিয়াসপত্নী লুনার মনোনয়ন আইনি জটিলতায় বাতিল হলে বর্তমান এমপি মোকাব্বির খানকে সমর্থন দেয় ঐক্যফ্রন্ট। স্থানীয় বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থান আর নিখোঁজ ইলিয়াস আলীর জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে পরাজিত করে সূর্য প্রতীক নিয়ে বড় জয় পান মোকাব্বির খান। এমপি হয়ে ইলিয়াস পরিবারকে ভুলেও যান তিনি। আমি সিলেট-২ আসনের সর্বস্থরের জনগণের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, আমি কোনো পরিবারের নির্বাচিত প্রতিনিধি নই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এরপর বিএনপির ছত্রছায়া থেকে বেরিয়ে এসে আতাত করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাংশের সাথে। যদিও তা বেশিদিন স্থায়ী ছিল না।

এদিকে মোকাব্বির খানের পথেই হাটছেন এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়া অন্যান্য দলের প্রার্থীরা। জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইয়াহইয়া চৌধুরী এবং তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রব মল্লিক প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন ইলিয়াস আলীকে। নির্বাচনী সভা কিংবা মতবিনিময় সভায় তুলে ধরছেন ইলিয়াস আলীর উন্নয়ন কর্মকান্ডকে। তৃণমূল বিএনপি মানেই বিএনপি সাধারণ ভোটারদের এমনটা বুঝাচ্ছেন আব্দুর রব মল্লিক। মোকাব্বির খানের মতো ইলিয়াস আলীর নাম ব্যবহার করে এমপি হওয়ার স্বপ্নে তিনিও বিভোর। তবে বিএনপি তাকে জায়গা দিচ্ছে না। বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, পরিকল্পিত পাতানো নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করছে না সুতরাং আমাদের কোন প্রার্থী নেই। ইলিয়াস পরিবারের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ নির্বাচন করতে গেলে এর সমুচিত জবাব আমরা দেব। তৃণমূল বিএনপি বলতে কিছু নেই, যেখানে আমাদের দল বিএনপি নির্বাচনে নেই সেখানে তৃণমূল বিএনপি আসে কোথা থেকে।

এদিকে ইলিয়াস আলীর উন্নয়নের জয়গান গাইছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইয়াহইয়া চৌধুরীও। বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্বাচনে ভোট দিতে না আসলেও বিএনপির সমর্থিত সাধারণ ভোটাররা তাকে ভোট দিবেন বলে বিশ্বাস করেন তিনি। তিনি বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীরা মামলা-হামলায় জর্জরিত। কিন্তু আমি এমপি থাকাবস্থায় তারা সবচেয়ে বেশি নিরাপদে ছিল। তাই বিএনপির কর্মী সমর্থকরা অল্টারনেটিভ হিসেবে আমাকে ভোট দিতে পারে বলে বিশ্বাস রয়েছে।

নৌকার প্রার্থী ছাড়া আলোচনায় থাকা জাতীয় পার্টি ও তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী বিএনপির ভোটারদের কাছে টানার চেষ্ঠায় রয়েছেন। তাই ‘নিখোঁজ’ ইলিয়াস আলীর জয়গান গেয়ে বিএনপির ভোটারদের মনে জায়গা করে নিতে চালাচ্ছেন প্রচেষ্ঠা। ভোটারদের কাছে টানতে ও পক্ষ-প্রতিপক্ষকে দুর্বল করতে ইলিয়াস আলীকে সামনে এনে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। কারণ ইলিয়াস ইস্যুতে সাধারণ মানুষের আবেগ জড়িত। সব কিছু ছাপিয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি না থাকলেও ভোটের মাঠে ফ্যাক্টর হয়ে আলোচনায় রয়ে গেছেন ইলিয়াস আলী।

প্রাসঙ্গিক সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

জনপ্রিয়

Recent Comments